তার মতে, যদি চলচ্চিত্র শিল্প নতুন ও মৌলিক গল্পে বিনিয়োগ না বাড়ায়, তাহলে একসময় এ শিল্প থমকে যাবে। সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম থিয়েটার প্রদর্শক সম্মেলন সিনেমাকনে অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
এ আয়োজনেই স্পিলবার্গ তার নতুন চলচ্চিত্র ‘ডিসক্লোজার ডে’র রহস্যময় ঝলক উন্মোচন করেন। দীর্ঘ সময় ব্যক্তিগত ও আবেগঘন গল্পভিত্তিক সিনেমা নির্মাণের পর তিনি আবার বড় বাজেটের বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে ফিরছেন। এর আগে তার নির্মিত ‘দ্য ফেবলম্যান্স’ এবং ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’ সিনেমা সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
স্পিলবার্গের নতুন সিনেমার কাহিনী এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে এতে ভিনগ্রহের প্রাণীর আগমন এবং তা গোপন রাখতে সরকারের ষড়যন্ত্রের বিষয় উঠে এসেছে। এ ধারা স্পিলবার্গের জন্য নতুন নয়। এর আগে তিনি ‘ইটি দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল’, ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অব দ্য থার্ড কাইন্ড’ ও ‘ওয়ার অব দি ওয়ার্ল্ডস’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।

চলচ্চিত্রটিতে একজন আবহাওয়া প্রতিবেদকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এমিলি ব্লান্ট, যার সঙ্গে ভিনগ্রহের প্রাণীদের একটি রহস্যময় সম্পর্ক রয়েছে। জোশ ও’কনর অভিনয় করেছেন এমন এক ব্যক্তির চরিত্রে, যার কাছে মানুষের সঙ্গে ভিনগ্রহের যোগাযোগের প্রমাণ আছে। কলিন ফার্থ অভিনয় করেছেন এক দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তার চরিত্রে, যিনি সত্য গোপন রাখতে সবকিছু করতে প্রস্তুত। আরো রয়েছেন ইভ হিউসন ও কোলম্যান ডোমিঙ্গো। চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জুরাসিক পার্ক’ খ্যাত ডেভিড কোপ।
সিনেমাকনে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্পিলবার্গ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি আকাশ ও অজানার প্রতি কৌতূহলী ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিনগ্রহের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের আগ্রহ ও বিশ্বাসও বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, ‘মানুষ এখন অনেক বেশি মেনে নিতে শিখেছে যে আমরা একা নই।’ তিনি উল্লেখ করেন, অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর অস্তিত্ব নিয়ে প্রমাণ বাড়ছে। ২০১৭ সালে একটি মার্কিন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ ধরনের গোপন তদন্ত কর্মসূচির কথাও উঠে আসে।
তবে নিজের চলচ্চিত্রের প্রচারণার বাইরে গিয়ে তিনি পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, বর্তমানে হলিউড অতিরিক্তভাবে সিকুয়াল, রিমেক ও প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে সৃজনশীলতার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।
স্পিলবার্গ স্পষ্ট করে বলেন, ‘যদি আমরা শুধু পরিচিত গল্প আর পুরনো কনটেন্টের পুনরাবৃত্তি করতে থাকি, তাহলে একসময় দর্শকের আগ্রহ কমে যাবে। নতুন গল্পই সিনেমার প্রাণ।’
তিনি আরো পরামর্শ দেন, সিনেমা হলে চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী সময় বাড়ানো উচিত। এতে দর্শক ধীরে ধীরে ভালো চলচ্চিত্র আবিষ্কারের সুযোগ পাবে এবং বড় পর্দার অভিজ্ঞতা বজায় থাকবে।
অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি বলেন, ‘আমি এখনই থামছি না।’
সবশেষে স্পিলবার্গের এ সতর্কবার্তা স্পষ্ট, হলিউড যদি টিকে থাকতে চায় তবে মৌলিক গল্পে ফিরে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। এখন দেখার বিষয়, তার নতুন সিনেমা ‘ডিসক্লোজার ডে’ দর্শকের কাছে কতটা নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে।
সূত্র: ভ্যারাইটি










