ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সুপারস্টার আমির খান। নব্বইয়ের দশকে তারকাখ্যাতি পাওয়া অভিনেতা তিনি। ২০০০ সালের পরপর হিটের সংখ্যা কমে গেলেও ২০০৮ সালে ‘গজনী’ দিয়ে ফিরে আসেন। এরপর ‘তারে জমিন পার’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘পিকে’ ও সর্বশেষ ‘দঙ্গল’ দিয়ে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন আলোচনায়। এটি এখন পর্যন্ত ভারতের সেরা আয় করা সিনেমার একটি। যেকোনো সিনেমার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও চরিত্রকে রূপদানে অভিনিবেশনের কারণে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ উপাধি পেয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল হিট সিনেমা দিয়ে। ১৯৮৮ সালে মনসুর খান পরিচালিত ‘কায়ামত সে কায়ামত তাক’ দিয়ে নায়ক আমিরের যাত্রা। কিন্তু এর পরই ছিল টানা আটটি ফ্লপ।
কায়ামত সে কায়ামত তাক এখনো দর্শককে নিয়ে যায় প্রেমের দুনিয়ায়। জুহি চাওলার সঙ্গে আমির খানের রসায়ন পছন্দ করেছিল দর্শক। কিন্তু এর পরই দুর্দশা। ফ্লপের ধারা থামে ইন্দ্র কুমার পরিচালিত ‘দিল’ দিয়ে। সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কাননের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইন্দ্র কুমার তার সিনেমা নিয়ে কথা প্রসঙ্গে আমিরের সে সময়ও তুলে এনেছিলেন। ইন্দ্র বলেন, ‘কায়ামত সে কায়ামত তাকের পর আমিরের আটটা সিনেমা টানা ফ্লপ করে। সে খুব মন দিয়েই কাজ করেছিল। তার আর কিছু করার ছিল না। আমার মনে হয়, সিনেমার সাফল্য অভিনেতার ওপর নয় বরং পরিচালকের ওপর নির্ভর করে। ভাগ্য ভালো যে ‘‘দিল’’ হিট হয়েছিল। সেটা না হলে আমার আর আমির, দুজনেরই ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেত।’
দিল ছিল ইন্দ্র কুমার পরিচালিত প্রথম সিনেমা। সে হিসাবে এটি তার জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইন্দ্র মনে করেন, আমির ভারতের অন্যতম সেরা অভিনেতাদের একজন। তিনি প্রতিভাবান। একটা সময় ভাগ্য খারাপ থাকায় তার সিনেমা খারাপ করেছিল। কিন্তু দিল সাফল্য পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের কাউকেই আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
সে কথা ইন্দ্র বললেও আমিরের সময় ‘দিল’ থেকে আসলে ভালো যায়নি। ইন্দ্র কুমার আটটি সিনেমার কথা বলেছেন, তা মূলত দিলের আগে-পরে মিলিয়ে। কেননা সিনেমাটি মুক্তির পরও আমির অভিনয় করেছেন ‘দিওয়ানা মুঝ সা নেহি’, ‘জাওয়ানি জিন্দাবাদ’, ‘আফসানা পেয়ার কা’, ‘দৌলত কি জঙ্গ’-র মতো সিনেমায়। কোনোটাই দর্শকের আর মনে নেই।
ইন্দ্রর সঙ্গেই আমির কাজ করেছিলেন ‘মান’ সিনেমায়। সহঅভিনেতা ছিলেন অনীল কাপুর ও মনীষা কৈরালা। সিনেমাটি নির্মাণের সময় মনীষা ও অনীলের সঙ্গে ইন্দ্রর ভালো সময় কাটলেও আমিরের মধ্যে তিনি অস্বস্তি দেখেছিলেন। ইন্দ্র বলেন, ‘আমির আমাকে বলেছিল, তার কোথাও একটা খটকা লাগছে।’
সে খটকামতোই কাজ হয়েছিল। ‘মান’ বক্স অফিসে ভালো করেনি। ইন্দ্রর এ সিনেমা বাজেভাবে ফ্লপ করেছিল বক্স অফিসে। তবে সেখানেও আমিরের দোষ দেন না ইন্দ্র। ওই সময় রীনা দত্তর সঙ্গে আমিরের বিচ্ছেদের কারণে তিনি অমনোযোগী ছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ইন্দ্র বলেন, ‘আমির সেটে আসার সময় বাইরের সবকিছু বাইরেই রেখে আসেন। মানে তিনি অসাধারণ পারফর্ম করেছিলেন। কেউ যদি ব্যর্থ হয়ে থাকে ওই সিনেমায় সেটা আমি, আমির নয়।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










