বলিউডের তরুণ অভিনেতাদের অন্যতম ঈশান খাত্তার। তিনি অভিনেতা শহীদ কাপুরের সহোদর ভাই। ঈশানের বাবা অভিনেতা রাজেশ খাত্তার ও শহীদের বাবা পঙ্কজ কাপুর। তাদের মা নীলিমা আজিম। ঈশানকে নীলিমা একাই লালন পালন করেছেন। ঈশানের মতে, এটাই তাকে দুনিয়া বুঝতে সাহায্য করেছে। তিনি জানান, পড়াশোনায় তার আগ্রহ একটা সময় পর্যন্ত ছিল, কিন্তু তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তিনি পড়াশোনায় আগ্রহ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেন। খুব ছোটবেলায় মায়ের আর্থিক সংকটের সাক্ষী হয়েছিলেন তিনি।

মোজো স্টোরির বারখা দত্তের সঙ্গে আলাপচারিতায় ঈশান এসব কথা বলেন। সেই সঙ্গে তিনি তার প্রাপ্ত বিশেষ সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গও এনেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ওপর দিয়ে যত কিছুই যাক, তার পরও বলতে হয় আমি দেশের শূন্য ১ শতাংশ মানুষের মধ্যেই পড়ি। বলতে চাচ্ছি, আমি সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের মধ্যেই একজন।’

তবু বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ তার ওপর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি বলেন, ‘যেকোনো তালাকপ্রাপ্ত দম্পতির সন্তানকে বয়সের আগেই বড় হয়ে যেতে হয়। কারণ আপনাকে অনেক সময় বয়সের ঊর্ধ্বে কিছু বিষয় বুঝতে হয়।’

তিনি নিজেকে সিনেমা, মিডিয়া, নৃত্য ও শিল্পের জগতে শিক্ষিত করে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম ‘‘সংস্কৃতিমান’’ ছেলে হতে। ওরা আমাকে সে স্বাধীনতা দিয়েছে। আমি এক বছর নৃত্যে প্রশিক্ষণ নিই।’

ঈশান বলেন, তার মা যখন ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন একসঙ্গে সামলাচ্ছিলেন এবং দুই ছেলেকে বড় করছিলেন, সেটা তার কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা ছিল। ঈশান বলেন, ‘কেবল মায়ের পরিশ্রমে বড় হওয়া যেকোনো সন্তানই নিজেকে অতিমানব মনে করতে পারে। মা হওয়াটাই যথেষ্ট কঠিন, তার ওপর একজন কর্মজীবী মা হওয়া এবং সেই সঙ্গে সিঙ্গেল মাদার হওয়া আরো কঠিন। মাকে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হয়েছিল। এটা আমার পৃথিবী দেখার দৃষ্টিভঙ্গির এক বিশাল অংশ আর নারীদের প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গিও সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে।’

জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় সম্পর্কে ঈশান বলেন, ‘আমার বয়স তখন তিন বা চার। আমার পরিবার তখন আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ভাগ্যক্রমে, মা তখন একটি টিভি শো করলেন দিল্লিতে তিন মাসের জন্য এবং আমাদের সেখান থেকে টেনে তুললেন। যদিও সেটা অনেক সময় ‘‘দুই ধাপ এগিয়ে এক ধাপ পেছান’’র মতো ছিল। তবুও আমি সেটা ইতিবাচকভাবে দেখেছি। আমি দুঃসময় দেখেছি, কিন্তু সেটি আমার চরিত্র গঠনে সাহায্য করেছে, আমার মনোবল ভাঙেনি।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস