২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলার সময় আটক হন কাজী নওশাবা আহমেদ। এর পর থেকে তার কাজ কমে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর নুহাশ হুমায়ূনের ‘ষ’ দিয়ে প্রত্যাবর্তন হয় তার। কাজে ফেরা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে নওশাবা কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
দীর্ঘদিন পরে কাজে ফিরে ‘২ষ’ তে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন। কেমন লাগছে?
ভীষণ ভালো লাগছে। অনেক বছর পর এ রকম একটা কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেলাম এবং সে সুযোগ আমি লুফে নেয়ার চেষ্টা করেছি। নুহাশ হুমায়ুন, প্রথম ষ এবং ২ষ-এর সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা, যারা মনে করেছেন যে আমি অন্তরা করার মতো যোগ্যতা রাখি।
কাজে ফেরার আগে অবসর সময়টুকু কীভাবে কাটত?
অবসর সময় বলতে আসলে কিছু নেই। আমার মনে হয়, ছোট জীবনে অনেক কিছু করা দরকার। যেহেতু আমি চারুকলা থেকে মাস্টার্স করেছি পেইন্টিংয়ের ওপর, সেহেতু অভিনয়ের বাইরেও আমার আর্টের অন্য শাখা-প্রশাখায় বিচরণ রয়েছে।
নূহাশ হুমায়ূনের ২ষ-তে যুক্ত হলেন কীভাবে?
আমি প্রথম ষ-তেই যুক্ত ছিলাম। এটা সম্পূর্ণ নুহাশের ক্রেডিট। সে হয়তো বুঝতে পেরেছে এবং সে যেটা চায়, সেটা ডেলিভারি করার মতো তৈরি হয়েছি। প্রথম ষ যখন সে বানায় তখন আমাকে বলেছিল, ‘মিষ্টি নামে একটি এপিসোড করবে। সেখানে একটি চরিত্র আছে, ওই চরিত্রে আমাকে চায়।’ এভাবেই যুক্ত হওয়া।
আমাদের দেশে ভৌতিক গল্প নিয়ে তেমন কাজ হয় না। এমন গল্পে কাজ করার সীমাবদ্ধতা কোথায় বলে আপনি মনে করছেন?
আমার মনে হয় কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। সাহসটা করতে হয়। আমরা সবসময় দর্শককে খুশি করে কাজ করি। ভিন্ন কিছু উপস্থাপন করার সে সাহস দরকার। প্রযোজক, ডিরেক্টর, রাইটার, মোটকথা সবার সাহস থাকতে হবে যে আমি একটা নতুন কিছু করতে চাই। তাহলেই ভৌতিক গল্পে অনেক কাজ করা সম্ভব।
বর্তমানে আপনার কাজের ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বর্তমানে আমার ব্যস্ততা আমার মেয়েকে নিয়ে। এছাড়া আমার মা, কুকুর বিড়াল, পশু-পাখি তাছাড়া টুগেদার উইকেন্ড নিয়ে অনেক বেশি সময় কাটাচ্ছি। পাশাপাশি সার্টিফিকেশন বোর্ডে আছি। এছাড়া আমি ট্রাস্টি বোর্ডেও আছি।
অনেক শিল্পী তাদের শিল্পচর্চা থেকে রাজনৈতিক দর্শনকে বড় করে দেখে, সাদাকে সাদা কিংবা কালোকে কালো বলতে পারে না। সেসব শিল্পীর উদ্দেশে আপনি কী বলবেন?
আমি বারবার বলতে চাই যে আমি অন্যের বিষয়ে কথা বলি না। বলতে চাইও না, কারণ একেকজনের বেড়ে ওঠা ও একেকজনের জীবনের দর্শন আলাদা। আমি আমারটা বলতে পারি এবং আমারটাই বলব। বাকিটা সময়ই তাদের জবাব দেয়। কে তার জীবনের আয়নাকে কতখানি পরিষ্কার রাখবে এটা আমি বলার কেউ নই, এটা একান্তই মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ।
আপনি যখন গ্রেফতার হয়েছিলেন ওই সময় আপনার সহকর্মীদের কতটা সাপোর্ট পেয়েছিলেন?
ওই সময় আমি মনে করতে চাই না। আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই এবং যে ক’জন আমাকে সাপোর্ট করেছিলেন, আমি তাদের মনে রেখেছি। তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।
যারা ফেসবুকে একটি লাইনও আমার জন্য লিখেছে, বিশেষ করে আমি সাংবাদিক ও ছাত্র সমাজের প্রতি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ তারাই তখন লেখালেখি করেছে। এছাড়া আমার সহকর্মী হিসেবেও বেশ কয়েকজন ছিলেন। তাদের প্রতি আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। আমার পিতা-মাতা আমার সঙ্গে ছিলেন। আমার কিছু বন্ধু সঙ্গে ছিলেন, তাদের প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ।
সিসিমপুরে আপনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে শিশুদের নিয়ে কোনো কাজ করতে চান কিনা?
আমি শিশুদের নিয়ে কাজ করব। করোনার সময়ও শিশুদের অনলাইনে পাপেট দিয়ে গল্প শোনাতাম। আমি সারা জীবন শৈশবের মধ্যেই থাকতে চাই। শিশুরা আমার সবচেয়ে প্রিয় এবং তারাও আমাকে ভীষণ পছন্দ করে।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মঞ্চনাটকের চাহিদা কতটুকু, আপনার কী মনে হয়?
বাস্তবতা ও চাহিদা যেটাই বলেন না কেন মঞ্চ এমন একটা জায়গা, যার চাহিদা কখনো ফুরাবে না। স্পর্শের চাহিদা কী কখনো ফুরায়? ফুরায় না। আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি যে কথাটা বলব সেটার যে মাধুর্য অনুভূতি প্রকাশ, এর সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। মানুষ দিনশেষে স্পর্শের কাছেই ফিরে আসবে এবং বারবার থিয়েটারে ফিরে আসবে।
আপনার অভিজ্ঞতা অনুসারে জীবন নিয়ে দর্শকের উদ্দেশে কী বলবেন?
অতীত থেকে ভালো স্মৃতি নিয়ে এ মুহূর্তকে সুন্দর করার নামই হচ্ছে জীবন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুঃখ-কষ্টে ডুবে যাওয়াটা জীবন নয়। এ মুহূর্তে বেঁচে থাকাটাই আমার কাছে জীবন।










