১০ বছর পর বড় পর্দায় ফিরেছেন অভিনেতা ইমরান খান। ‘হ্যাপি প্যাটেল’ সিনেমায় একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ইমরান জানিয়েছেন, তারকাখ্যাতি ফিরে পেতে বা আগের তারকাখ্যাতি ব্যবহার করে ফিরছেন না তিনি। বরং সিনেমার সঙ্গে আবার যুক্ত হওয়া ও নিখাদ আনন্দের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থেকেই এ ফেরা।

গত দুই বছর ইমরান বহু চিত্রনাট্য পড়েছেন, কিন্তু কোনোটিই তাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেনি। অবশেষে তিনি আগ্রহী হন হ্যাপি প্যাটেলে। এটি তার বন্ধু ও ‘ডেলি বেলি’র সহ-অভিনেতা বীর দাসের পরিচালনায় প্রথম সিনেমা। ২০১৫ সালের ‘কাট্টি বাট্টি’র পর এটিই বড় পর্দায় ইমরানের প্রথম উপস্থিতি।

পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেন, ‘২০২৩ সালের শেষের দিকে আমি আমার ‘‘হাইবারনেশন’’ থেকে বেরিয়ে এলাম। মানুষের সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু করি। তখন অনেকেই বলল, আরে, এই লোকটা তো এখনো বেঁচে আছে! এরপর তারাও যোগাযোগ করতে শুরু করল। কিন্তু এখন আমার দৃষ্টিভঙ্গি আগের থেকে একেবারেই আলাদা।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবাই ক্যারিয়ার থেকে একই জিনিস চায় না। আমি এখন আর সবচেয়ে বড় তারকা হওয়ার বা শীর্ষ তিনে থাকার চেষ্টা করছি না। আমি কোনো সিনেমা করব শুধু তখনই, যখন সিনেমাটা আমি সত্যিই ভালোবাসব এবং মনে হবে, এটা না করলে মিস করে ফেলব।’

আর্থিকভাবে ইমরানের কোনো সমস্যা নেই। তবে জীবনের এ পর্যায়ে তিনি বন্ধু ও সমমনস্ক মানুষের সঙ্গে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী। ‘জানে তু ইয়া জানে না’, ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’ ও ‘ব্রেক কে বাদ’-এর মতো রোমান্টিক কমেডিতে জনপ্রিয় এ অভিনেতা বলেন, ‘আমি আসলে সিনেমা করেছি বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে। আমরা সবাই মিলে চরিত্রে ঢুকি, সাজি, অভিনয় করি। আমার কাছে সিনেমা বানানো মানে সেটাই, ভালোবাসা আর আনন্দ থেকে শিল্প সৃষ্টি।’

ইমরান জানান, বীর দাস ও তার আরেক বন্ধু মিথিলা পালেকর একটি ‘পাগলাটে, স্পুফি স্পাই কমেডি’ করছেন শুনেই তার মধ্যে আগ্রহ কাজ করতে শুরু করে। ইমরান বলেন, ‘আমি তখনো চিত্রনাট্য শুনিনি। শুধু বন্ধুদের কাছ থেকে শুনে একটা উত্তেজনা টের পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল, ওরা এত মজা করে কাজ করছে। এর সঙ্গে কি আমিও যুক্ত হতে পারি না?’

এরপর তিনি বীরকে মেসেজ করেন এবং বীর তার জন্য আলাদা করে একটি চরিত্র তৈরি করে ফেলেন। সিনেমায় ইমরান অভিনয় করেছেন মিলিন্দ মোরেয়া নামের এক আন্তর্জাতিক সুপারমডেলের চরিত্রে।

হ্যাপি প্যাটেল গত শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ইমরান জানান, সিনেমার ট্রেলারে নিজেকে দেখে যে পরিমাণ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। দীর্ঘ বিরতির সময় তিনি সচেতনভাবে নিজেকে ‘প্রাসঙ্গিক’ রাখার কোনো চেষ্টা করেননি বলেও জানান।

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস