চলচ্চিত্র ও ভিডিও নির্মাণের সঙ্গে সংযুক্ত শিল্পীদের উৎসাহিত করতে ও স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাজ্য থেকে দেয়া হয় জারম্যান অ্যাওয়ার্ড। ১৭তম পর্ব অতিক্রম করছে প্রত্যাশিত আসরটি। এবারের মৌসুমে জারম্যান অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন ইরানীয় নির্মাতা মরিয়াম তাফাকরি।
তাফাকরি তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার লাভ করেন। তিনি তার কাজের মধ্য দিয়ে ইরানের বিপ্লব-পরবর্তী সিনেমার ঐতিহ্যকে কিছু ফুটেজের মাধ্যমে সমন্বয় করেছেন। এর আগে ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া তার চলচ্চিত্র”‘ইরানি ব্যাগ’ স্প্লিট-স্ক্রিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখিয়েছেন, কীভাবে সিনেমায় হাতব্যাগ প্রায়ই মানুষের স্পর্শের প্রতিস্থাপক হিসেবে ব্যবহার হয়। মূলত ঘনিষ্ঠতার ওপর আরোপিত সেন্সরশিপ নিয়ে কাজ করা তাফাকরির একটি প্রধান বিষয়। ২০২২ সালের বিমূর্ত চলচ্চিত্র ‘নজরবাজি’ থেকে শুরু করে পরের বছরের ‘মাস্ত-দেল’ পর্যন্ত নানাভাবে তিনি মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেন।
মরিয়ামের জন্ম ইরানে হলেও বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যে। বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন। তিনি তার নিজ দেশ ও সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করেছেন, যদিও শেষ করেননি। পরে অক্সফোর্ড থেকে ফাইন আর্টসে মাস্টার্স ও কিংস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাফাকরি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এ ছবিগুলোর মধ্যে সেসব গল্প লিখতে চেয়েছি, যা তারা কখনো আমাদের বলেনি এবং সে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি, যা সর্বদাই আমাদের সামনে থাকা সত্ত্বেও চাপা ছিল। আমি চাই এ ছবিগুলোই স্বাক্ষ্য দিক। নারীবিদ্বেষ ইরানের বিপ্লব-পরবর্তী সিনেমার পরিচয় থেকে আলাদা নয়।’
তাফাকরির কাজের স্ক্রিনিং ও প্রদর্শনী এরই মধ্যে নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, কান ও টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি পূর্বে শিকাগো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের গোল্ড হুগো পুরস্কার জিতেছেন। বার্বিকান সিনেমার কিউরেটর ও জুরি দলের মুখপাত্র ম্যাথিউ ব্যারিংটন বলেন, ‘তাফাকরির কাজ বাস্তবতা ও কল্পনার উদ্ভাবনী মিশ্রণের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার কাজ স্থানচ্যুতি, স্মৃতি ও প্রতিরোধের এক অনন্য অন্বেষণ, যা আর্কাইভাল টুকরো, কবিতা এবং ব্যক্তিগত আখ্যানকে একত্র করে গভীর আবেগপূর্ণ কাজ সৃষ্টি করে। তার চলচ্চিত্রগুলো ঐতিহাসিক ও ব্যক্তিগত ট্রমা নিয়ে বিস্ময়কর সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করে। ইরানি সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের সংযোগস্থলগুলোকে প্রতিফলিত করেন মরিয়াম।
মরিয়ামসহ এবারের আসরে ছয়জন নির্মাতাকে সম্মানিত করেছে ফিল্ম লন্ডন জারম্যান অ্যাওয়ার্ড। বাকি পাঁচজন হলেন ল্যারি আচিয়াপং, মেইভ ব্রেনান, মেলেনি ম্যানচট, রোজালিন্ড নাশাশিবি ও সিন ওয়াই কিন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান










