লারা দত্ত ভূপতি, মানে বলিউড সুন্দরী লারা দত্ত তার দুই দশকের ক্যারিয়ারজুড়ে বহুবার দর্শকের হূদয়ে সৌন্দর্য আর অভিনয় দিয়ে আলোড়ন তুলেছেন। কিন্তু এবার তার সুন্দরী ইমেজ বদলে যাচ্ছে। ডিজনি প্লাস এবং হটস্টারের ‘হানড্রেড’ শিরোনামের সিরিজে লারা দত্তকে মুম্বাইয়ের সহকারী পুলিশ কমিশনার

সৌম্য শুক্লার চরিত্রে দেখা যাবে। সিরিজটি মুক্তি পেয়েছে ২৫ এপ্রিল।

সিরিজের ট্রেলারটিতে দেখা যায় সহকারী পুলিশ কমিশনার সৌম্য শুক্লা তার ব্যাজ ও বন্দুকের মহড়া দেখাচ্ছে। সে আক্ষেপ করে বলে, ‘আমি জেমস বন্ড হতে চেয়েছিলাম, আর সেখানে এখন আমি ডিপার্টমেন্টের আইটেম গার্ল।’ কিন্তু সবকিছু বদলে যায় যখন নেত্রা নামের এক অসুস্থ মেয়েকে শুক্লা নিয়োগ দেয়। বিশেষ অসুস্থতায় নেত্রার জীবনের আর মাত্র ১০০ দিন বাকি আছে।


লারা দত্ত সিরিজটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘যেহেতু আমি মিস ইউনিভার্স ছিলাম, আমার পুরো ক্যারিয়ারেই নির্দিষ্ট একটি ধাঁচে আমার চরিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে। এই চরিত্রটির মাধ্যমে আমি নিজেকে নতুনভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছি। সাধারণত সিনেমায় পুলিশদের অ্যাকশন চরিত্রে দেখানো হয়, যেখানে তারা সমাজের বিভিন্ন অসংগতি ঠিক করার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে। তবে সৌম্য শুক্লার চরিত্রটি একটু অন্য রকম। তার অনেক ত্রুটি আছে এবং সে মজার মানুষ। এমন চরিত্র সিনেমায় খুবই বিরল। তাই আমার কাছে চরিত্রটিতে অভিনয় করার প্রস্তাব আসামাত্রই রাজি হয়ে গিয়েছি।’

শুক্লা চরিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে তার জন্য অভিজ্ঞতার এক নতুন জগৎ খুলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন লারা দত্ত ভূপতি। তিনি মুম্বাইয়ের এমন সব স্থানে শুটিংয়ের জন্য গিয়েছিলেন যেখানে আগে কখনো পা রাখেননি। এ চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে লারা মুম্বাইয়ের নারী পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

লারা আরো বলেন, ‘আমি যে নারী পুলিশদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি তারা মেয়েলি নন। কারণ তাদের কাছে মহিলাদের মতো হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাও পুরুষদের মতোই কঠোর হয়ে যান।’

৪২ বছরের লারা এবং তার ১৮ বছর বয়সী সহশিল্পী রিঙ্কু রাজগুরুর মধ্যে অনেক অমিল রয়েছে। রাজগুরু এর আগে কোনো হিন্দি ছবিতে কাজ করেননি। তিনি মারাঠি সিনেমায় ছোট শহরের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে লারা বেশির ভাগ সময়ই স্টাইলিশ ও শহুরে মহিলাদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

লারার মতে, এ পার্থক্যগুলো তাদের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, ‘সৌম্য শুক্লার চরিত্রটি জীবনের কঠিন দিকগুলো দেখেছে। আমার কুড়ি বা তিরিশের দশকে আমি চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারতাম না, এই চরিত্রের জন্য জীবনের কিছু নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। অন্যদিকে, রিঙ্কুর চরিত্রটি অনভিজ্ঞ এবং শুরু হওয়ার আগেই তার জীবন প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

 

সূত্র: স্ক্রলইন