অভিনেতা ও পরিচালক মনোজ প্রামাণিক বর্তমানে রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান এশিয়ান ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনায় ব্যস্ত। এবারের দুর্গা পূজা তিনি দেশ থেকে দূরে কাটাচ্ছেন। দেশের বাইরে থেকেও পূজার আবহ অনুভব করছেন ভিন্নভাবে। এবারে দেশের বাইরে পূজা উদযাপন নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

দেশে থাকতে না পারায় কতটা মিস করছেন এবারের পূজা?

দেশের বাইরে থাকার কারণে এবারের পূজায় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, বাবা-মা, ফ্যান-ফলোয়ার—সবাইকে খুব মিস করছি। আবার এক ধরনের ভিন্ন অনুভূতিও হচ্ছে; দেশের বাইরে থেকে পূজার আবহ কেমন লাগে, সেটাও এবার টের পাচ্ছি।

পূজার সময় বিদেশে থেকে এ উৎসবের আবহটা কেমনভাবে অনুভব করছেন?

সাউথ কোরিয়ায়, বিশেষ করে বুসানে ঋতুবদল খুব ভালোভাবে টের পাওয়া যায়। শরৎকালীন আকাশ-বাতাস এবং সূর্যের আলো উপভোগ করছি। পূজার কথা যখন ভাবি, তখন এখানকার আবহকে গ্রামের পূজার সঙ্গে সম্পর্ক করতে পারছি। এটা সত্যিই এক সুন্দর অনুভূতি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় কি কোনো মন্দির বা পূজার আয়োজন খুঁজে পেয়েছেন?

শুনেছি সিউলে কিছু মন্দির আছে, তবে বুসানে আছে কিনা আমি জানি না।

পূজার সময় আপনার সবচেয়ে প্রিয় কাজগুলো কী থাকে?

গ্রামের বাড়িতে যাওয়া, সবার সঙ্গে আড্ডা দেয়া, খেলাধুলা করা, নৌকায় ঘুরে বেড়ানো। বিকালে বা সন্ধ্যায় বাজারে গিয়ে পূজামণ্ডপে আরতি দেখা—এসবই পূজার সময় আমার প্রিয় কাজ।

বিদেশে থেকেও পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগ করে নেয়া কতটা সম্ভব হচ্ছে?

বিদেশে থেকেও আনন্দ ভাগ হচ্ছে ভিডিও কলে। কেউ ভিডিও পাঠাচ্ছে, গ্রাম থেকে আমার কাজিনরা আরতির সময় ভিডিও করে পাঠিয়েছে। আমি দেখেছি। ভিডিও কলে কথাও হয়েছে অনেকের সঙ্গে। এভাবেই এবারের পূজা সবার সঙ্গে ভাগ করা হচ্ছে।

দেশে পূজা করার সময়ের কোন স্মৃতিটা এ বছর সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে?

পূজা মানেই আমার কাছে গ্রামের বাড়ি। জীবনের প্রায় সব পূজাই গ্রামের বাড়িতে কাটিয়েছি। পাঁচদিনের পূজার মধ্যে অন্তত তিনদিন গ্রামের বাড়িতে, বাকি দুইদিন অন্য কোথাও কাটিয়েছি। গ্রামের পূজা এত মিষ্টি, প্রাণবন্ত এবং এত কাছের মনে হয়, অন্য কোথাও সেই অনুভূতি পাওয়া যায় না। তাই এবারের পূজায় সবচেয়ে বেশি মিস করছি আমার গ্রামকেই।

যারা দেশে থেকে পূজা পালন করছে, তাদের জন্য আপনার বিশেষ শুভেচ্ছা বা বার্তা কী হবে?

সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা। সবাই সুন্দর থাকুন, জীবন মঙ্গলময় হোক। আনন্দ করুন, শরৎ উপভোগ করুন, পূজা উপভোগ করুন। মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব এবং প্রেম জাগ্রত হোক—এ ভুবন সুন্দর হোক, এটাই আমার কামনা।