আফ্রিকায় ইবোলার প্রভাবে কী অবস্থা হয়েছে, সেটা পুরো পৃথিবী দেখেছে। আফ্রিকার কঙ্গো থেকে ইবোলা মতন একটি ভাইরাস মোটাবাতে আক্রান্ত একটি বানর জাহাজে করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে আসে। হঠাৎ করে এক ব্যক্তিকে আঁচড় দিয়ে ফেলে বানরটি। ব্যস এর পরই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে চলেছে ক্যালিফোর্নিয়াসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্র। এই মহামারী ছড়িয়ে পড়া রুখতে সেনাবাহিনীসহ অন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগামী ৪৮ ঘণ্টা কতটা কী করতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।
এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে ‘আউটব্রেক’
চলচ্চিত্রটি। যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলা আউটব্রেকের বাস্তব ঘটনা থেকে রিচার্ড প্রিস্টনের লেখা বই ‘দ্য হট জোন’
অবলম্বনে নির্মিত এ চলচ্চিত্রে বেশির ভাগ বর্ণনাই বাস্তবতা থেকে নেয়া হয়েছে।
ছবিতে ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৯৬৭ সালে আফ্রিকান জঙ্গলে একটি মরণঘাতী ভাইরাস মোটাবা ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে। বিষয়টি গোপন রাখতে আমেরিকান সেনাবাহিনী সেই জঙ্গলে অবস্থানরত সেনাক্যাম্প ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু ২৮ বছর পর আর্মি ডাক্তারসহ আমেরিকান সেনাবাহিনীর একটি দল কঙ্গোতে যায় সেখানকার মহামারী অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে। কিন্তু সেই দলটির তদন্ত অনুসারে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দূর করে দেয়া হয়।
কিন্তু সমস্যা হয় যখন একই ভাইরাসে আক্রান্ত একটি বানরকে চোরাইপথে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয় বিক্রি করার উদ্দেশ্যে। যে পশুপাখির দোকানে রাখা হয় বানরটি সেখানেই সে একজনকে আঁচড় কেটে দিলে তিনি আক্রান্ত হন। এরপর সে যখন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যায় সেখানকার ডাক্তারসহ অনেকেই আক্রান্ত হন। এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে।
ভাইরাসটির কারণে মারা যাচ্ছে মানুষ। আক্রান্ত হচ্ছে শত শত। মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্কে দিশেহারা মানুষ। এমন অবস্থায় পুরো শহর লকডাউন করে দেয়া হয়। কিন্তু অবস্থা নাগালের বাইরে চলে যেতে থাকে। পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় মেডিকেল ক্রাইসিস তৈরি হয়। এ অবস্থায় কঠিন সিদ্ধান্ত না নিলে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে। শুরু হয় সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ। কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয় আক্রান্ত সবাইকে। কিন্তু তাতেই বিপদের শেষ নয়। প্রতিষেধক তৈরি করতে না পারলে হাজার হাজার মানুষ মারা যাবে।
উলফগ্যাং পিটারসেন পরিচালিত ‘আউটব্রেক’
চলচ্চিত্রটি ১৯৯৫ সালের ১০ মার্চ মুক্তি পায়। ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ডাস্টিন হফম্যান, রেনে রুশো, মর্গান ফ্রিম্যান, কেভিন স্পেসি, ডোনাল্ড সুথারল্যান্ড, কুবা গুডিং জুনিয়র ও প্যাট্রিক ডেম্পসি। ১২৮ মিনিটের মেডিকেল ডিজাস্টার জনরার এ সিনেমাটি সমালোচকদের কাছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও দর্শকরা এটিকে ভালোভাবেই গ্রহণ করেছে। মাত্র ৫০ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত ছবিটি প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এছাড়া সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে কেভিন স্পেশি এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য দুটি পুরস্কারও পান।










