সংগীতশিল্পী স্বপ্নীল সজীব। সম্প্রতি তিনি জাতিসংঘের ১৯তম আন্তর্জাতিক যুব মানবাধিকার সম্মেলনে বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশী তারকা সংগীতশিল্পী হিসেবে বক্তব্য দেয়ার গৌরব অর্জন করলেন। ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইটসের আয়োজনে ও টিমোর-লেস্তের স্থায়ী মিশনের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের নানা দেশের রাষ্ট্রনেতা, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিচর্চাকারী ও মানবাধিকারকর্মীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বপ্নীল সজীব তার বক্তৃতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তি, মানবতা ও সহানুভূতির দর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং বলেন, ‘জাতিসংঘের মহিমান্বিত মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার গান ও রবীন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণায় শিক্ষা ও শান্তির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলা জীবনের এক পরম গর্বের বিষয়। আমি শুধু একজন শিল্পী নই একজন সংস্কৃতিকর্মীও, যার কাজ শুধু সুর সৃষ্টি নয়, বরং মানবতার কল্যাণে গান বোনা।’ তার এ বক্তব্যে উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হন এবং প্রশংসায় ভাসান।
স্বপ্নীল সজীব ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিভাবান শিশুদের সংগীত ও শিল্পকলার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও মর্যাদা গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখছে। সংগীতের মাধ্যমে তিনি সমাজের দুর্বল ও উপেক্ষিত শ্রেণীকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।
সংগীতচর্চায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বপ্নীল সজীবের কৃতিত্ব নজরকাড়া। ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট কর্তৃক তাকে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির সমারসেট কাউন্টির মেয়র ও কাউন্সিল তাকে বাংলাদেশী সংস্কৃতি ও সংগীতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য বিশেষ সম্মাননা দেন।
জাতিসংঘের মঞ্চে সংগীত ও মানবাধিকারকে সমন্বিত করে স্বপ্নীল সজীব এক শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, যা বাংলাদেশী সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রসারকে বহুগুণ বৃদ্ধি করবে। তার এ সাফল্য দেশের সংগীতাঙ্গন ও তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।










