এক ইসরায়েলি ও এক ফিলিস্তিনি যৌথভাবে নির্মাণ করেছেন ‘নো আদার ল্যান্ড’। অস্কারে এটি পেল সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার। এর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অংশটি হলো যখন ইউভাল তার বন্ধু বাসেলকে বলে যে সে বাড়ি ফিরছে। কেননা ইউভাল ইসরায়েলি, সে তার বাড়ি ফিরতে পারে। তার বাড়ি যেমন ছিল তেমনই থাকবে। কিন্তু বাসেলের ক্ষেত্রে বিষয়টা উল্টো। তার বাড়ির কোনো নিশ্চয়তা নেই। কেননা সে একজন ফিলিস্তিনি।

নো আদার ল্যান্ড অনেকটা দিনলিপির মতো। একটা আক্রান্ত অঞ্চলের প্রতিদিনের আশঙ্কার ছাপ স্পষ্ট করা হয়েছে এ তথ্যচিত্রে। পুরো তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ইসরায়েল প্রতিনিয়ত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

তথ্যচিত্রটি একদিনে নির্মাণ হয়নি। বেশ কয়েক বছর ধরে চারজন মিলে তৈরি করেছেন এটি। এরা ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি অ্যাকটিভিস্ট। তারা হলেন বাসেল আদরা, ইউভাল আবরাহাম, হামদান বল্লাল ও র‍্যাচেল জোর। তথ্যচিত্রটি নির্মাণ হয়েছে বাসেলের গ্রাম মাসাফার ইয়াত্তায়। এটি পশ্চিম তীরে অবস্থিত।

এ তথ্যচিত্রের পেছনে আছে বাসেল ও ইউভালের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। এছাড়া মাসাফার ইয়াত্তায় যেভাবে দিন কেটেছে তাও একটা অনুষঙ্গ এ সিনেমার। বাসেল অবশ্য বলেছেন, তার নিজের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতা কাজ করেছে এ সিনেমা নির্মাণের পেছনে। পাশাপাশি বাসেল ও ইউভালের বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ এসেছে তথ্যচিত্রে। সেখানে আছে তীব্র এক আবেগ। বাসেল নিজে তার গ্রাম ও গ্রামের মানুষের ভাগ্য এবং তাদের জীবনযাপন নিয়ে ভেবেছেন। ইউভালের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে ইসরায়েলের কৃতকর্ম নিয়ে এক ধরনের অনুশোচনা।

তথ্যচিত্রে দেখা যায়, আইন বিষয়ে বাসেলের একটা ডিগ্রি থাকলেও ইসরায়েলে সে কেবল নির্মাণ শ্রমিকের চাকরিই পায়। আইনের মাধ্যমে সেখানে ভূমি ব্যবস্থা বদল করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বহু ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করেছে। তাদের হারাতে হয়েছে মানুষের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার।

ফিলিস্তিনিরা দিনের পর দিন নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তারা মার খাচ্ছে, মারা পড়ছে, তবুও সংগ্রাম করছে। পুরো বিষয়টা তুলে ধরার পাশাপাশি বাসেল বলছেন, ফিলিস্তিনিদের প্রয়োজন ধৈর্য। অস্কার হাতে পেয়ে অভিভাষণে তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে আমি বাবা হয়েছি। আমি চাই না আমি যে জীবন যাপন করছি, আমার মেয়েকেও সে জীবনই যাপন করতে হোক। প্রতিটা মুহূর্তই জবরদখলকারীদের অত্যাচার নিয়ে আমাকে ভাবতে হয়। আমাদের বাড়ি ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে, জোর করে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে আবাস থেকে।’

ইউভাল বলেন, ‘যখন বাসেলের দিকে তাকাই, আমি আমার ভাইকে দেখি। কিন্তু আমাদের সমতা নেই। এমন একটা শাসনের অধীনে আছি, যেখানে আইন আমাকে স্বাধীন বলছে। আমি নাগরিক আইনের অধীনে দিন যাপন করছি আর বাসেলকে চলতে হয় সামরিক আইন মেনে। এটা তার জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে আর এ বিষয়ের কিছুই তার নিয়ন্ত্রণে নেই।’