বলিউডের কিছু সিনেমা বেঁচে থাকে গানের মধ্য দিয়ে। গত দশকে মুক্তি পাওয়া আশিকি টু সে ধারার সিনেমা। এর আগে আশিকিও (১৯৯০) গান দিয়ে মুগ্ধ করেছিল দর্শককে। ২০১৩ সালে মুক্তি পায় আশিকি টু। এ সিনেমায় গান গেয়ে ক্যারিয়ারে চূড়ান্ত সাফল্য পান অরিজিত সিং। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বলিউডের সেরা গায়ক। কিন্তু একই সিনেমার মধ্য দিয়ে পিছিয়ে পড়েছিলেন আরেক কিংবদন্তি গায়ক কেকে। তাকে দিয়েই প্রথমে আশিকি টুর গান রেকর্ড করানো হয়েছিল। পরে মোহিত সুরি কেকের কণ্ঠ বাদ দেন। নতুন করে অরিজিতকে দিয়ে গান রেকর্ড করান।

সম্প্রতি এইচটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মোহিত সুরি বলেন, ‘আশিকি টু নির্মাণের সময় আমি কেকের গলায় গানগুলো রেকর্ড করেছিলাম। এর আগেও তার সঙ্গে কাজ করেছি। কেয়া মুঝহে পেয়ার হ্যায় তার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু আশিকি টুর গান রেকর্ড করার পর মনে হলো কেকের কণ্ঠ ইমরান হাশমির জন্য ঠিক ছিল কিন্তু আদিত্য রয় কাপুরের সঙ্গে যাচ্ছে না। আমি নতুন কোনো কণ্ঠ চেয়েছিলাম।’

কিন্তু এরপর অরিজিতকে তিনি কী করে পেলেন? এ নিয়ে মোহিত জানান, ‘আমি এরপর অডিশন নেয়া শুরু করি। যতজনকে নেয়া সম্ভব নিচ্ছিলাম। এরপর অরিজিতকে পাই। আমি অরিজিতের কণ্ঠ শুনলাম। তখনই মনে হলো ঠিক এ কণ্ঠই আমি চাচ্ছি। আরেকটা জিনিস মাথায় ছিল প্রতিষ্ঠিত কোনো শিল্পীর কণ্ঠ এখানে কাজ করবে না।’

২০০০ সাল-পরবর্তী সময়ে কেকে ছিলেন বলিউডের বহু জনপ্রিয় গানের কণ্ঠ। রোমান্টিক গানের ক্ষেত্রে তিনি একাধিক প্রজন্মের কাছে প্রিয় ছিলেন। বিরহের গানেও তার জুড়ি ছিল না। কিন্তু অরিজিত আসায় তিনি জনপ্রিয়তা তো পেলেনই, কেকের জনপ্রিয়তা যেন কমে গেল। বিষয়টি নিয়ে খুব একটা কথা না হলেও অনেকে মনে করেন কেকে বলিউডের রাজনীতির শিকার। সে রাজনীতিতে কেকে পিছিয়ে পড়েছিলেন আর অরিজিতের উত্থান হয়েছিল।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস