রাইমা ফিরছেন হানসল মেহতার ‘ফ্যামিলি বিজনেস’ সিনেমায়। বলিউডে ফেরা নিয়ে তিনি বলেন, ‘হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে সবসময়ই ভালো লাগে। কিন্তু স্বীকার করতেই হবে, এবার একটু সময় লেগে গেল।’

ইন্ডাস্ট্রিতে রাইমার যাত্রা দীর্ঘ। অভিষেক সিনেমা ‘গডমাদার’। এরপর ২৬ বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তখন আমি ১৭ বছরের এক মেয়ে। কলকাতায় থাকতাম। বিনয় শুক্লা স্ক্রিন টেস্ট নিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, ‘‘ছবিটা করো, তুমি একদম মানানসই’’। তখন আমি পড়াশোনা করছিলাম। শাবানা আজমির মতো অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করতে ভীষণ ভয় পেতাম। প্রতিদিন শুটিংয়ে ভয় লাগত। কিন্তু নিজেকে বুঝিয়েছিলাম যে চেষ্টা করব, না পারলে অন্য কিছু করব।’

সূচিত্রা সেনের নাতনি রাইমা সেন। তার মা মুনমুন সেন ও বাবা ভরত দেব বর্মা। রাইমা জানান, তারা বাবা-মা তাকে ও তার বোন রিয়া সেনকে সবসময় নিজেদের মতো পথ খুঁজে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাবা-মা সবসময়ই আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। ভালো দিক হলো আমি এখনো কাজ করছি, এখনো সময় আছে।’

এখন তার কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। রাইমা বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি যেকোনো কাজই করতাম, কিন্তু এখন অনেক বেশি দায়িত্বশীল। তবে বলিউডে খুব বেশি বাছবিচার করা যায় না, কারণ এখানে প্রতিযোগিতা আঞ্চলিক ইন্ডাস্ট্রির চেয়ে অনেক বেশি।’

নেপোটিজম ও একপক্ষীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বলিউডে এটা চিরন্তন বিতর্ক। কিন্তু সত্যি হলো, টিকে থাকে সেরা মানুষটাই। পরিবার থেকে সুযোগ পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু সে সুযোগকে কতটা কাজে লাগানো যায়, সেটাই আসল। আবার চাপও আছে। আমার ওপর প্রত্যাশার চাপ সবসময়ই ছিল। কিন্তু প্রথম সিনেমা থেকেই আমি তাদের মতো (নানি ও মা) হতে পারিনি। ‘‘চোখের বালি’’র পর মানুষ বলতে শুরু করল যে আমি অভিনয় করতে পারি।’

এ উত্তরাধিকারকে আশীর্বাদ মনে করেন রাইমা। কারণ দর্শক এখন তাকে চেনে। বিশেষ করে বাংলা সিনেমায় অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু বলিউডে এখনো কিছুটা একই রকম। তবে তিনি এ ঐতিহ্যের বাইরে নিজেকে নিয়ে যেতে চান। কিছু হারিয়ে যাওয়া প্রজেক্টের কথা ভাবলে এখনো কষ্ট হয় তার। রাইমা সেন বলেন, ‘অনেক ভালো সিনেমায় অভিনয় করেছি, কিন্তু সেগুলো মুক্তিই পায়নি। সেরা পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেও কোনো লাভ হয়নি। এখনো সেগুলো মনে পড়ে। বিশেষ করে তনুজা চন্দ্র পরিচালিত ‘‌‘‌রাখ’’। এ সিনেমায় আমার সঙ্গে বীর দাস ও রাজিব খাণ্ডেলওয়ার অভিনয় করেছিলেন। সবকিছু শেষ হয়েছিল, ডাবিংও হয়ে গিয়েছিল। দারুণ গল্প ছিল, কিন্তু আজও মুক্তি পেল না—এ স্মৃতিগুলো কষ্ট দেয়।’

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস