হলিউডের নায়িকাদের মধ্যে কেট উইন্সলেটকে চেনে না এমন মানুষ দুর্লভ। যারা হলিউডের সিনেমা দেখেন না, তারাও টাইটানিকের কারণে তাকে চেনেন। কেটের ক্যারিয়ারে হিট সিনেমার অভাব নেই। সেই সঙ্গে আছে সমালোচক-পছন্দ সিনেমাও। সত্তরের বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন কেট। একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে (অস্কার) সাতবার মনোনীত হয়ে তিনি ২০০৮ সালে দ্য রিডারের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারও পান। নব্বইয়ের দশকে সিনেমায় অভিষেকের পর সাফল্য পেয়েছেন দ্রুতই। কিন্তু এর মধ্যেই ইন্ডাস্ট্রি থেকে নানা সময় বিদ্রূপেরও শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এসব নিয়ে কথা বলেন তিনি। কেবল বলেনই না, বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্তও হন।
মূলত একটা সময় শারীরিক গড়ন ও ওজনের কারণে তাকে বিদ্রুপ করা হয়েছিল। তিনি গণমাধ্যমের সামনে এ নিয়ে প্রতিবাদও করেছেন। সম্প্রতি সিক্সটি মিনিটসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। টাইটানিকের পর নানা পুরস্কার পাচ্ছিলেন কেট। সে সময় তার ওজন ও পোশাক নিয়ে গণমাধ্যম থেকে কিছু বিরূপ মন্তব্য আসে। সময়টা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টা ভয়ংকর ছিল আমার জন্য। আমি তখন তরুণ। ইন্ডাস্ট্রিতেও নতুন। এমন একজনের সঙ্গে তারা এ আচরণ কীভাবে করতে পারে? বিষয়টা আমি এখনো বুঝতে পারি না।’
এ সময় এসে ‘বডি শেমিং’, ‘বুলিইং’ নিয়ে নানা সচেতনতা তৈরি করা হয়। নব্বইয়ের দশকে এসব বিষয়ে এতটা সচেতনতা বা আলোচনা ছিল না। আর বিনোদন গণমাধ্যম সবসময়ই নিজেদের আলোচনায় রাখার জন্য এমন নানা কাজ করত। সিক্সটি মিনিটসের উপস্থাপক কেটের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কেট এর কোনো প্রতিবাদ করেছিলেন কিনা। জবাবে কেট বলেন, ‘আমি তাদের মুখোমুখি হয়েছিলাম। প্রতিবাদও করেছিলাম। তাদের বুঝিয়েছিলাম, এটা আমাকে কতটা কষ্ট দিয়েছে। আমি চেয়েছিলাম, তারা যেন ভুলটা বুঝতে পারে এবং এটা তাদের তাড়া করে বেড়ায়।’
পুরো সময়টা তার শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক খবর প্রকাশ হতো। এ নিয়ে তিনি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারান। কেট বলেন, ‘আমি হয়তো একটু ভারী ছিলাম। কিন্তু এতটাও মোটা ছিলাম না যে আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে হবে। আর ভারী শরীর হলেই বা কেন তা নিয়ে বিদ্রূপ করতে হবে? ওদের আচরণ খুবই হীন ছিল।’ এসব কথা স্মরণ করে কেট অশ্রুসিক্ত হন।
সূত্র: ভ্যারাইটি










