ভারতের দক্ষিণের সিনেমার জয়জয়কার অনেক দিন ধরেই। শক্তিশালী গল্প, কারিগরি উৎকর্ষ, অভিনয়ের মান, বিনোদন ও অ্যাকশন নৈপুণ্যের কারণে দক্ষিণের সিনেমা দর্শকের কাছে তুমুল জনপ্রিয়। ফলে অধিকাংশ ছবিই ব্যবসাসফল হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে বলিউডকেও যেন পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টিকে এবার গুরুত্ব দিয়েই মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব করণ জোহর।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বলিউড পরিচালকরা বড় আকারের অ্যাকশন ফিল্ম নির্মাণে দক্ষ নয়। গত কয়েক বছরে তামিল, তেলেগু ও কন্নড় সিনেমার সাফল্যের প্রভাবে হিন্দি সিনেমা বড় ইভেন্ট ফিল্মে ফিরে এসেছে, তবে ফলাফল মিশ্র।’ করণ জোহরের মতে, বর্তমান প্রজন্মের পরিচালকরা এ ধরনের সিনেমা তৈরি করার যোগ্যতা রাখেন না।

দ্য স্ট্রিমিং শো পডকাস্টে সুচিন মেহরোত্রার সঙ্গে আলাপকালে করণ জোহর বলেন, ‘বলিউডে বড় আকারের ফিল্ম তৈরির ক্ষেত্রে পরিচালক সংকট রয়েছে। দু-একটি নাম ছাড়া অন্য কেউ চোখে পড়ে না। পুরো প্রজন্মটি অন্য ধরনের হিন্দি সিনেমা দেখে বড় হয়েছে। গ্লোবালাইজেশন, শাহরুখ খানের প্রভাব, বিদেশে শুট করা গল্প সবই তারা পছন্দ করে। কিন্তু কখনো ফ্রন্ট-ফুটেড শক্তিশালী ও অতিমানবীয় দাপুটে সিনেমা দেখেনি। এখন সেটা তারা শিখতেও পারছে না। তাই তারা সেগুলো নকল করতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে।’

পডকাস্টে আলাপকালে করণ জোহর দক্ষিণ ভারতের নির্মাতা এসএস রাজামৌলি, সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা ও প্রাসান্ত নীলের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘বলিউডের পরিচালকদের তাদের পরিচিত ধারায় ফিরে আসা উচিত।’ উদাহরণ হিসেবে ‘সাইয়ারা’ সিনেমার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আমাদের কাছে এ ধরনের ফিল্ম তৈরির জন্য পর্যাপ্ত পরিচালক নেই।’

উল্লেখ্য, করণ জোহরের শেষ পরিচালিত সিনেমা ছিল ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’, যার প্রধান চরিত্রে রণবীর সিং ও আলিয়া ভাট অভিনয় করেন। ২০২৩ সালে মুক্তির পর ৩০০ কোটি রুপি আয় করেছিল। পরে সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস