দীর্ঘ বিরতির পর সিনেমায় ফিরেছেন অভিনেতা ও মডেল ইরফান সাজ্জাদ। এরই মধ্যে ছোট পর্দা ও ওটিটিতে বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। এবার ১০ বছর পর ২৯ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে আসছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ভয়াল’। এ সিনেমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
দীর্ঘ সময় পর ভয়াল নিয়ে ফিরলেন, দর্শক টানার মতো এ সিনেমায় কী আছে?
সম্প্রতি কয়েক বছরে সিনেমা হলে বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে ভয়াল সিনেমার গল্পটা একটু আলাদা। যে গল্পে ক্রাইসিস, রোমান্স ও টানাপড়েন আছে, যে টানাপড়েন আমাদের সমাজে অহরহ ঘটে কিন্তু সচরাচর এ টপিকের ওপর কোনো নাটক বা সিনেমা হয় না। সে জায়গা থেকে আমরা যেভাবে ভয়াল সিনেমাটিকে দেখাতে চেয়েছি, এটি দর্শক ভালোভাবেই গ্রহণ করবে এ আশা রাখছি। স্ক্রিন প্লে থেকে শুরু করে গল্প বলার ধরনসহ প্রতিটা সিকোয়েন্স এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে দর্শক শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির সঙ্গে থাকবে।
বিরতির পর পাহাড়ি যুবকের ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ চরিত্রে অভিনয় করতে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল কিনা?
কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না, তবে আমরা যে লোকেশনে শুটিং করেছি ওই লোকেশনে চ্যালেঞ্জ ছিল। শুটিংয়ের জায়গায় থাকা-খাওয়া, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের অনেক সমস্যা ছিল। এছাড়া সব ঠিক ছিল।
ভয়াল ঠিক এখনই মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হলো ?
ঈদ ছাড়া সিনেমা মুক্তি দেব না, এ জায়গা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। কারণ সারা বছর ঈদ দুটি। ঈদেই যদি রিলিজ দেয়ার জন্য সবাই বসে থাকে, সারা বছর যদি কোনো সিনেমা মুক্তি না পায়, এটা সিনেমার জন্য আত্মঘাতী ব্যাপার। কাউকে না কাউকে ঈদ ছাড়া সিনেমা মুক্তি দিতে এগিয়ে আসতে হবে। আমি বরাবরই চেয়েছি আমার সিনেমা ঈদ ছাড়াই মুক্তি পাক।
ঈদ প্রতিযোগিতায় আমি যেতেই চাই না। কারণ ঈদে পাঁচ-ছয়টা সিনেমা রিলিজ হয়, সেখানে দর্শকের জন্য কঠিন হয়ে যায় জাজ করা যে সে কোন সিনেমা দেখবে। দর্শক বিভ্রান্ত হয়ে যায়। তাই আমাদের সবার ঈদ ছাড়া সিনেমা মুক্তি না দেয়ার কালচার থেকে বের হয়ে আসা উচিত। যাতে হলে সারা বছর সিনেমার ধারাবাহিকতা থাকে। এখন মানুষ সিনেমা হলে কিছুটা আসতে শুরু করেছে, এ মুহূর্তে সিনেমাটি মুক্তি দেয়া যদিও ঝুঁকিপূর্ণ, তবে কেউ তো এগিয়ে আসতে হবে। সে জায়গা থেকে আমরা এগিয়ে এলাম, দরদ এগিয়ে এসেছে, সামনে হয়তো আরো সিনেমা রিলিজ হবে আমাদের দেখে।
আমরা দেখেছি যে যারা ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় আসে, তখন ছোট পর্দায় কাজ কমিয়ে বা ছেড়ে দেয়, আপনার ক্ষেত্রে কী হবে?
দর্শক যদি আমায় বড় পর্দায় পছন্দ করে তাহলে তো অবশ্যই বড় পর্দায় একটু বেশি সময় দিতে চাইব, এটাই স্বাভাবিক।
আপনার অভিনীত ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ ও ‘ভালোবাসা এমনই হয়’, এ দুই সিনেমার পর দীর্ঘ ১০ বছর কেটে গেছে। এত বছর পর এসে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কী পরিবর্তন দেখছেন?
দেশের কনটেন্ট ওয়াইজ সিনেমার অনেক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে গত তিন-চার বছরে যে কনটেন্টগুলো হলে দেখানো হয়েছে যেমন সুরঙ্গ, হাওয়া, তুফান, আরো বেশকিছু ভালো সিনেমা। এ স্মার্ট কনটেন্টের সিনেমা বাংলাদেশে রিলিজ হচ্ছে, এটা বেশ বড় একটা ব্যাপার। এ ভিন্ন ভিন্ন ভালো কনটেন্টগুলো ভালো করেছে, এটা ১০ বছরে বড় একটা উন্নতি দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য।
সম্প্রতি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক পরিবর্তন হলো। আপনি আর কী পরিবর্তন চান?
আমাদের ইন্ডাস্ট্রির টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলোয় আরো উন্নতি করা যেতে পারে। এফডিসির দুর্দান্ত কিছু সামগ্রীও, এডিট প্যানেল আছে। কিন্তু এখানে কাজ করার জন্য দক্ষ লোক নাই। দক্ষ লোক ঠিক জায়গামতো নিয়োগ দেয়া জরুরি। সিনেমা হলগুলো সংস্কার করা, সব মিলিয়ে মানুষ যাতে রেগুলার কনটেন্ট বানাতে আগ্রহী হয় এবং ওই কনটেন্টগুলো যেন সুন্দরভাবে সিনেমা হলে প্রদর্শন করা যায়। এক্ষেত্রে সরকারেরও কোনো সাহায্য প্রয়োজন হলে সেটা সরকারকে এগিয়ে আসা উচিত।
এছাড়া সিনেমায় দেশের বাইরে থেকে ড্যান্স পরিচালক, ভালো কালার গ্রেট করতে, আরো টেকনিক্যাল অনেক প্রয়োজনে দেশের বাইরে চলে যেতে হয়, এটা কেন হবে? আমাদের দেশে তো মেধা আছে। ভালো মেশিনারিজ যদি আনা যায় এবং সেগুলো যথাযথ ব্যবহারে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা যায়, সেক্ষেত্রে আমাদের দেশের অনেক টাকা বেঁচে যায়।
ভয়াল ছাড়া সামনে কোনো কাজের খবর আছে কিনা?
সামনে ভয়ালের পর ‘আলি’ নামে আরেকটা সিনেমা রিলিজ হবে। সিনেমাটি সেন্সরে কয়েক দিনের মধ্যেই জমা হবে। আগামী বছরের যেকোনো একটা ভালো সময়ে ‘আলি’ মুক্তি পাবে।










