একাডেমি সদস্যরা যেহেতু মানুষ, তাই চারপাশের নানা প্রচারণা তাদের মনস্তত্ত্বে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারবে না, এমনটা শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায় না। এবারের অস্কারের আসর বসবে ৯ ফেব্রুয়ারি। এ বছরের অস্কারের বিজয়ীদের নির্ধারণ করতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে গত ৩০ জানুয়ারি। আরো কয়েক দিন চলবে এ ভোটগ্রহণ। এখন চারপাশের অনেক কিছু নিশ্চয়ই ভোটদাতাদের প্রভাবিত করবে। অবশ্য এ প্রভাব প্রমাণ করা যাবে না নিশ্চয়। যেহেতু ভোটদাতারা মানুষ, তাই তারা যে বাহ্যিক নানা উৎস দিয়ে প্রভাবিত হবে না, এমনটাও তো নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায় না। দ্য হলিউড রিপোর্টার-এ স্কট ফিনবার্গ লিখেছেন, ‘আমি
বিশ্বাস করি, গত কয়েক বছর ভোটাররা বেশ কয়েকবার বাহ্যিক পরিস্থিতি দিয়ে প্রভাবিত হয়েছেন। ২০০২ সালে অস্কারের এক মাসে আ বিউটিফুল মাইন্ড-এর জন্য রাসেল ক্রো ছিলেন পরিষ্কার ফেভারিট। সবাই নিশ্চিত ছিল তিনি টানা দ্বিতীয়বার অস্কার জিততে যাচ্ছেন। সে রকম এক সময় রাসেল ক্রো উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করলেন এক অনুষ্ঠানের প্রযোজকের সঙ্গে। সে খবর দ্রুত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে গেল। ঘটনার জন্য রাসেল ক্রো ক্ষমা চেয়েছিলেন, কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গিয়েছিল। এক মাস পর সেরা অভিনেতা বিভাগে অস্কার জিতে নেন ড্যানজেল ওয়াশিংটন।’
স্কট ফিনবার্গ এরপর উদাহরণ টেনেছেন ২০১৭ সালের। সে বছর সেরা ছবির অস্কারের জন্য ফেভারিট ছিল লা লা ল্যান্ড। সমালোচকদের মতামত থেকে বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড উৎসবে জয়জয়কার ছিল ছবিটির। কিন্তু অস্কার নাইটে ছবিটি হেরে যায় মুনলাইটের কাছে। হঠাৎ করে কী হয়েছিল? এক সপ্তাহ আগে যখন ভোটাররা অস্কারের জন্য তাদের ভোট দিচ্ছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জয় নিরাশ করেছিল হলিউডের বামঘেঁষা মানুষদের। অশ্বেতাঙ্গ, দরিদ্ররাও হতাশ। অন্যদিকে মুনলাইট ছবিতে এমন মানুষের কথা এসেছে। তাই লা লা ল্যান্ডের গান ও নাচের চেয়ে ভোটাররা খুব সম্ভবত সিরিয়াস বিষয়ে তৈরি মুনলাইটকেই সেরা ছবির জন্য বেছে নিয়েছিলেন।
এবারের অস্কারে দ্য কেভ ছবিটি সাম্প্রতিক ইস্যু হিসেবে সুবিধা পেতে পারে। ছবিটি সিরিয়ার সংঘাত নিয়ে নির্মিত। ছবির পরিচালক ফেরাস ফায়াদকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেয়া হয়নি, যদিও ভিসা সমস্যাটি ২৬ জানুয়ারি সমাধান হয়েছে। এসব বিষয় শেষ সময়ে অস্কারের ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা বিভিন্ন উৎসবে জোকার ছবি ও অভিনেতা জোকিন ফিনিক্সেরই জয়জয়কার। এ ছবি ও অভিনেতা অস্কার জিতবেন, এমন একটি ধারণা এবার প্রতিষ্ঠিত। দেখা যাক, শেষমেশ কী হয়!
সূত্র: হলিউড রিপোর্টার










