কাজের মধ্য দিয়ে যেমন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন, তেমনি দেশের উৎসব ও ঐতিহ্যকে ঘিরে সৃজনশীল সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরছেন। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষকে তিনি দেখেন এক গভীর সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবে।
বাংলা নববর্ষ নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মীর রাব্বি বলেন, ‘মুছে যাক জরা, ঘুচে যাক গ্লানি’ কথাগুলো যেন বাস্তবেও প্রতিফলিত হয়।’
তার মতে, পহেলা বৈশাখ কেবল উৎসব নয়, এটি বাঙালির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক। ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় যে উন্মাদনা, উচ্ছ্বাস আর বর্ণ-ধর্ম-শ্রেণী-বৈষম্য ভুলে সবাই একসঙ্গে এ উৎসবে অংশ নিতাম, তা আমাকে খুব নাড়া দেয়।’
মফস্বল শহরে বেড়ে ওঠা থেকে রাজধানীতে এসে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া, এ অভিজ্ঞতাগুলো তার কাছে এখনো বিশেষ। যদিও সময়ের সঙ্গে সে উচ্ছ্বাস কিছুটা বদলেছে, তবুও এর গুরুত্ব কমেনি বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমানে বৈশাখ উদযাপন নিয়ে আগের মতো পরিকল্পনা না থাকলেও এর প্রতি ভালোবাসা অটুট রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাব্বি বলেন, ‘আগে অনেক কিছুর সঙ্গে ইনভলভ থাকা হতো। এখন সময়, বয়স বা সার্কেল সবই কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে, তাই আর সেভাবে হয়ে ওঠে না।’
তবে কাজের ফাঁকে সময় পেলেই প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান বলেও জানান তিনি।
দেশের বিনোদন মাধ্যমের দিকে তাকালে বৈশাখকে ঘিরে কাজের ঘাটতি চোখে পড়ে, এমনটাই মনে করেন এ নির্মাতা ও অভিনেতা। তার ভাষায়, ‘বৈশাখকে কেন্দ্র করে এখনো তেমন নাটক বা সিনেমা তৈরি হয় না। ঈদ বা ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে বেশি কাজ হয়।’ এক্ষেত্রে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি আশা করব, বৈশাখও যেন একটি বড় উপলক্ষ হয়ে ওঠে, যেখানে নাটক, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে আরো বেশি কাজ তৈরি হবে।’
নতুন বছরকে সামনে রেখে সমাজের প্রতি তার প্রত্যাশাও স্পষ্ট। রাব্বি বলেন, ‘মানুষ আরো মানবিক ও সৃজনশীল হয়ে উঠুক। সহানুভূতি বাড়ুক, মানবিকতা বৃদ্ধি পাক।’
বৈশাখকে কেন্দ্র করে সৃজনশীল কাজের পরিসর বাড়ানো গেলে তা শুধু বিনোদন শিল্পকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং বাঙালির সংস্কৃতি ও চেতনাকেও নতুনভাবে তুলে ধরবে। মীর রাব্বির মতো তরুণদের এ প্রত্যাশা বাস্তবায়ন হলে একদিন পহেলা বৈশাখও হয়ে উঠতে পারে চলচ্চিত্র ও নাটকের এক বড়, প্রাণবন্ত উৎসব।










