ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আজম খান। অভিনয়ের পাশাপাশি পেশায় তিনি একজন ব্যাংকার। এ মাসেই শোবিজ অঙ্গনে এক দশক পূর্ণ করতে চলেছেন এ অভিনেতা। অভিনয় ক্যারিয়ার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

অভিনয়ে এক দশক পার করলেন, কেমন ছিল এ যাত্রা?

১০ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে ভালো-মন্দ উভয়ই ছিল। তবে পজেটিভ দিকটাই অনেক বেশি। শুরু করেছিলাম ২০১৫ সালের ৩ জুলাই। শহীদুজ্জামান সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে ‘দ্য হিরো’ নামে একটি টেলিফিল্মের মাধ্যমে আমার যাত্রা শুরু। প্রথম কাজ হিসেবে এটা আমার জন্য ভালো একটা অভিজ্ঞতা ছিল, কিন্তু একই দিনে আমি আমার মাকে হারাই। এটি আমার সারা জীবনের জন্য একটি কষ্টের স্মৃতি। তারপর ফরহাদ ফয়সালের পরিচালনায় বিটিভির একটা সিরিয়ালে কাজ করেছি। এরপর ২০১৬ সালে চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করি। এভাবেই শুরু। এরপর বিভিন্ন ধারাবাহিক ও সিরিয়ালে কাজ করি। ২০১৮ সালে সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হই। একই বছর বিজ্ঞাপনের কাজ শুরু করি। এভাবেই অনেকটা সময় পার হয়ে অভিনয় জীবনের ১০ বছর হয়ে গেল।

যে শখের বশে অভিনয়ে এসেছিলেন, সেটি পূরণ হয়েছে তো?

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে। শুরুটা আসলে শখ থেকেই আসা। পরে ভেবেছি শখ পূরণ হলে আবার নিজের কাজে ফিরে যাব। সে ফেরা আর হয়নি। এ সময়ে মানুষের সম্মান আর ভালোবাসা অনেক পেয়েছি।

শোবিজে আজকের এ অবস্থানে আসার পেছনে ক্রেডিট কাকে দেবেন?

আমি নাটক, টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক, সিনেমা, বিজ্ঞাপন সব মিলিয়ে প্রায় ১৭৫ জন নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছি। কৃতিত্বটা তাদেরই বেশি। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে। আমি অবশ্যই নির্মাতাদেরই বেশি ক্রেডিট দেব, কারণ তাদের মাধ্যমে সুযোগটা না পেলে হয়তো এতগুলো কাজ করা হতো না।

২০১৫ সালে প্রথম আর বর্তমানে ১০ বছর পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর মধ্যে পার্থক্য কেমন?

পার্থক্য অনেক আছে। প্রথমে একটা জড়তা ছিল। নার্ভাসনেস কাজ করেছে। সংলাপ দেয়ার ক্ষেত্রে ভুল হতো। মাস্টার শট ও ক্লোজ শট এগুলো নিয়ে সমস্যা হতো। ডেলিভারিতে ভুল হতো। এগুলো এখন আর হয় না। এখন নিজেকে কনফিডেন্ট মনে হয় যে আমি পারব।

বাংলা নাটকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।

টেলিভিশনে যে কাজগুলো হয় সেগুলোয় পারিবারিক গল্প থাকে। পারিবারিক গল্পে বাবা, মা, ভাই, বোন চরিত্রগুলো চলে আসে। তাদের ছাড়া একটি পরিবারের গল্প পূর্ণতা পায় না। মাঝখানে নাটক থেকে এ চরিত্রগুলো হারিয়ে গিয়েছিল। তবে এখন সেগুলো ফিরে এসেছে। এছাড়া বর্তমানে অনেক লিজেন্ড আর্টিস্ট আছেন। বর্তমানে আমাদের বাজেট অনেক কম। বাজেট স্বল্পতা না থাকলে আরো ভালো মানের নির্মাণ হতে পারত। তাছাড়া আমাদের দেশের বাজারটা অনেক ছোট। বাংলা ভাষাভাষী মানুষ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সে তুলনায় আমরা কনটেন্ট তৈরি করতে পারছি না। যে কনটেন্টগুলো হচ্ছে, সেগুলোও ভালো মানের নির্মাণ হচ্ছে না। এ জায়গায় যারা পৃষ্ঠপোষকতা করে, তার পাশাপাশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যদি এগিয়ে আসে তাহলে আরো ভালো কাজ করা সম্ভব। তবে এখন অনেক ভালো কাজ হচ্ছে।

ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে আপনি অভিনয় করেছেন। আপনার ভালো লাগার চরিত্র কোনটি?

বাবা চরিত্রেই আমার অভিনয় করতে ভালো লাগে।

বিভিন্ন মাধ্যমে তো কাজ করেছেন, কোন মাধ্যম আপনার পছন্দ?

আমি মূলত নাটকেরই মানুষ। নাটকেই আমার প্রাপ্তি ও পরিচিতিটা বেশি। তবে আমার কাছে বিজ্ঞাপন করতে বেশি ভালো লাগে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনেক দিন মানুষের সামনে থাকা যায়।

বর্তমানে আপনার কাজ নিয়ে যদি জানাতেন।

আমি এ মুহূর্তে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটা সিরিয়ালে কাজ করছি। অক্টোবর থেকে এটি অনইয়ার হবে। বৈশাখী টিভির আরো একটি সিরিয়ালে কাজ করছি, সেটাও অনইয়ার হচ্ছে সপ্তাহে তিনদিন। এক ঘণ্টার কিছু কাজ করছি্। আরো কিছু কাজ পাইপলাইনে আছে।

অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যতে আপনার কোনো ইচ্ছা আছে কিনা?

মনের মতো একটা চরিত্রে অভিনয় করা, যেখানে গল্পটা আমাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে। আমি জানি না কখনো এমন সুযোগ হবে কিনা।