গতকাল ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ আয়োজিত বিজয় কনসার্ট। অভূতপূর্ব এক দৃশ্য দেখা গেল সেখানে। বহু মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে এসেছিল কনসার্ট উপভোগ করতে। দুপুর ১২টায় কনসার্টের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তার আগে থেকেই দেখা যায় জনসমাগম। বিকাল হতে না হতে কানায় কানায় পূর্ণ হয় কনসার্ট প্রাঙ্গণ। এরপর একে একে মঞ্চে ওঠেন দেশের সেরা শিল্পীরা।

বেলা ২টায় মঞ্চে ওঠেন প্রীতম হাসান। আধা ঘণ্টা গান পরিবেশন করেন তিনি। লাগে উরাধুরাসহ অসংখ্য গানের মাধ্যমে কনসার্ট মাতিয়ে তোলেন প্রীতম। আড়াইটায় মঞ্চে ওঠেন ইথুন বাবু ও মৌসুমী। ‘আমি মেজর জিয়ার কথা বলছি’ গানের মাধ্যমে গান পরিবেশন শুরু করেন। ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি করছ ছলাকলা’ গানটির মধ্য দিয়ে দর্শক শ্রোতাদের মাতিয়ে তোলেন। ২টা ৫৫ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন আলম আরা মিনু। ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা’ ও ‘সোনা দানা দামি গহনা’ এ দুটি গান পরিবেশন করেন।

11

৩টা ১০ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন মনির খান। ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে’ ও ‘প্রেমের তাজমহল’ এ দুই গান পরিবেশন করেন।

বেলা ৩টা ২৫ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন কনকচাঁপা। ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’ ও ‘সাগরিকা বেঁচে আছি তোমারই ভালোবাসায়’ গান দুটি পরিবেশন করেন। পরে মঞ্চে ওঠেন আলেয়া বেগম ও শুভ। দ্বৈত কণ্ঠে পরিবেশন করেন বাউল গান। ‘বেহায়া মন গান’ ও ‘যদি থাকে নসিবে আপনি আপনি আসিবে’ দুটি গান পরিবেশন করেন চিশতি বাউল। বিকাল সাড়ে ৪টায় মঞ্চে ওঠেন ইমরান। তিনি পরিবেশন করেন ‘চলতে গিয়ে মনে হয়’, ‘আমি এমন একটা তুমি চাই’, ‘দিয়েছি তোকে দিল দিল’ গান তিনটি।

শ্রোতারা সবার গানের সঙ্গেই গলা মিলিয়েছে। চিৎকার করে ইমরান, ইথুন বাবু, চিশতি বাউলের সঙ্গে গান গেয়েছে। অনেকে স্থানাভাবে গাছের ওপর উঠে কনসার্ট উপভোগ করার চেষ্টা করে। কেউ একা এসেছিল, আবার কেউ এসেছিল পরিবার সঙ্গে নিয়ে। বিকাল গড়াতে থাকলে ভিড় আরো বাড়তে শুরু করে।

৪টা ৪৫ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন দিলশাদ নাহার কণা। তিনি এ প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী। এ বছর তুফান সিনেমায় ‘দুষ্টু কোকিল’ গানটি দিয়ে দর্শক মাতিয়েছেন। এ গানের পাশাপাশি তিনি পরিবেশন করেন ‘ওরে শ্যাম’। তবে দুষ্ট কোকিল গেয়ে ওঠার পরই শ্রোতারা তার সঙ্গে গলা মেলাতে শুরু করেন।

মানিক মিয়া এভিনিউতে এ কনসার্টের সময় সংসদের সামনে ও তার আশপাশে, খামারবাড়ি থেকে শুরু করে পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য ছিল।

সন্ধ্যার পরও ভিড় কমেনি বরং কনসার্ট জমে উঠেছিল আরো। সন্ধ্যার পর ব্যান্ডগুলো গান পরিবেশন করে। এর মধ্যে ছিল ডিফারেন্ট টাচ, আর্ক, সোলস, শিরোনামহীন, আর্টসেল, অ্যাভয়েড রাফা, সোনার বাংলা সার্কাস ও নগরবাউল। এ আয়োজন ছিল একেবারেই দেশীয় শিল্পী ও ব্যান্ড নিয়ে। দেশের বাইরের কোনো শিল্পী ছিলেন না। বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে কনসার্টটি দেশীয় শিল্পী ও দেশের সংস্কৃতিকেই তুলে ধরেছে।