মারলন ব্রান্ডো ১৯৭২ সালে দ্য গডফাদার ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার অস্কার জিতেছিলেন। ১৯৭৩ সালের ৪৫তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে লিভ উলমান ও রজার ম্যুর ব্রান্ডোর নাম ঘোষণা করলে তার পরিবর্তে মঞ্চে ওঠেন অভিনেত্রী সাচিন লিটলফেদার।
এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। ব্রান্ডোর অস্কার তার হাতে দিতে চাইলে সাচিন পুরস্কার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এর পরিবর্তে তিনি বক্তৃতা দিতে শুরু করেন, যা ছিল মারলনের লেখা ১৫ পৃষ্ঠার একটি চিঠি।
সাচিন এভাবে শুরু করেন, ‘হ্যালো, আমার নাম সাচিন লিটলফেদার। আমি আপাচি ও ন্যাশনাল নেটিভ আমেরিকান এফারমেটিভ ইমেজ কমিটির প্রধান। আমি আজকের সন্ধ্যায় মারলন ব্রান্ডোর প্রতিনিধিত্ব করছি। তিনি আমাকে একটি দীর্ঘ বক্তৃতা আপনাদের শোনাতে বলেছেন। কিন্তু সময়ের অভাবে তা পুরোটা আপনাদের বলতে পারছি না।’
এ সময় তিনি বলেন, আমি সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে সবাইকে জানাতে চাই যে মারলন অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে এ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমেরিকার ইন্ডিয়ানদের নেতিবাচক উপস্থাপনের কথা বলেছেন।
যদিও মারলনের পুরো চিঠিটা পড়া হয়নি, তার পরও এটা বোঝা গিয়েছিল যে, প্রয়াত অভিনেতা মারলন স্থানীয় আদিবাসী আমেরিকানদের পক্ষে তার অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন।
দ্য ডিক ক্যাভেট শোয়ের এক সাক্ষাত্কারে মারলন বলেছিলেন, ‘আমেরিকার ইন্ডিয়ানদের জন্য মোশন পিকচার ইন্ডাস্ট্রি কী করেছে, লোকে তা সত্যিই উপলব্ধি করতে পারে বলে আমার মনে হয় না। তাদেরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা দেখে তাদের গভীরভাবে আহত হওয়ার বিষয়টি অনেকেই উপলব্ধি করতে পারেন না। প্রাপ্তবয়স্ক ইন্ডিয়ানরা হয়তো এসব দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন কিন্তু ইন্ডিয়ান শিশুরা এ সব দেখে বেদনার্ত হয়।’
‘ইন্ডিয়ান শিশুরা দেখে যে তাদের পিতাকে বর্বর, কুিসত, কদর্য, বিশ্বাসঘাতক, দুষ্ট, মাতাল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। শিশুরা তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বড় হয় এবং এটা আজীবন তাদের ভেতরে স্থায়ী থাকে’—এ কথা বলে মারলন তার বক্তব্য শেষ করেছিলেন।
সাচিন লিটলফেদারকে হলিউডে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তিনি স্থানীয় আমেরিকানদের অধিকার সংরক্ষণে একজন সচেষ্ট কর্মী ছিলেন। ২০১৮ সালে লিটলফেদারের স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে। তিনি এখনো তার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: পিংকভিলা










