বাংলায় একটা প্রবাদ আছে—উভয় সংকটে পড়া। মলির অবস্থা ঠিক তেমনই। খুবই ধীরগতির কিন্তু অক্লান্ত এক জম্বি তার পিছু নিয়েছে। এরই মধ্যে মলির সঙ্গী নিককে খুন করেছে জম্বিটি। এখন মলির পালা। মলির সামনে ধুধু মরুভূমি, আর পেছনে জম্বি। যদি জম্বির আক্রমণে নাও মারা যায় তবে মরুভূমির অসহনীয় রোদ আর মরুঝড়ের কবলে পড়ে নিশ্চিত মারা যাবে। মৃত্যু আর বিপদ যেন সবদিক থেকে ধেয়ে আসছে।
এমনই গল্পকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ‘ইট স্টেইনস দ্য স্যান্ডস রেড’
ছবিরি কাহিনী। ছবিতে বিভিন্ন শেডের লাল রঙের ব্যবহারটা চোখে পড়ার মতো। লাল রং যেমন বিপদের রং হিসেবে ব্যবহার হয়, তেমনি এ ছবিতে এর ব্যবহারই যেন বলে দেয় বিপদ অপেক্ষা করছে। মাত্র তিনটি চরিত্র দিয়েও যে পুরো একটা ছবিকে টেনে নেয়া যায় তার একটি উদাহরণ ‘ইট স্টেইনস দ্য স্যান্ডস রেড’।
ছবির কাহিনী শুরু হয় লাস ভেগাসে। হঠাৎই জম্বিদের আক্রমণে পুরো শহর নরকে পরিণত হয়েছে। মানুষগুলো জম্বিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এ অবস্থায় মলি আর নিক দূরের একটি এয়ারস্ট্রিপ থেকে পালানোর চিন্তা করে। কিন্তু তাদের গাড়ি যাত্রাপথে মরুভূমির বালিতে আটকা পড়ে। এরপর উদয় হয় সেই ধীরগতির কিন্তু ক্লান্তিহীন জম্বির। প্রথমেই নিককে খুন করে। এরপর পিছু নেয় মলির।
বাঁচার তাগিদে মলি ছুটতে শুরু করে মরুভূমির উত্তপ্ত রোদের মধ্যেই। কোনো গন্তব্য জানা নেই তার। শুধু জানে তাকে বাঁচতে হবে। এদিকে পিছে লেগে আছে জম্বিটি। মলির খাওয়া, ঘুম, বিশ্রাম দরকার হলেও জম্বিটির কিছুই দরকার পড়ছে না। ক্লান্তিহীনভাবে সে মলির পিছু চলেছে। জম্বিটির হাত থেকে বাঁচতে মলি মরুভূমির উঁচু পাথরের ওপর রাতে ঘুমাতে যায়, মরুঝড়ের সম্মুখীন হয়, তার ওপর আবার অনাহারে অবস্থা খারাপ হওয়ার জোগাড়। এরই মধ্যে আশার আলো হয়ে দেখা দেয় একটি বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়িতেই যে সবচেয়ে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে মলির জন্য। বাঁচার শেষ আশাটুকুও হারাতে চলেছে মলি।
‘টুয়েন্টি এইট ডেইজ লেটার’
ছবিটির পরে ২০১৬ সালে একই সঙ্গে যে দুটি ছবি জম্বি হরর জনরায় সম্পূর্ণ আলাদা ও নতুন গল্প নিয়ে হাজির হয় তার মধ্যে একটি হলো এই ‘ইট স্টেইনস দ্য স্যান্ডস রেড’,
অন্যটি হলো ‘ট্রেন টু বুসান’। তবে একটা বড় পার্থক্য হলো ‘ইট স্টেইনস দ্য স্যান্ডস রেড’
ছবিতে চরিত্র মাত্র তিনটি আর ট্রেন টু বুসানে চরিত্রের অভাব
ছিল না।
‘ইট স্টেইনস দ্য স্যান্ডস রেড’
ছবিটির প্রথম প্রিমিয়ার হয় ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে স্পেনের সিটজেস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। পরে লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও প্রদর্শিত হয়। তবে খুবই সীমিত আকারে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া হয় ২০১৭ সালে। কলিন মিনিহান পরিচালিত ৯২ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ছবিতে অভিনয় করেন ব্রিটানি অ্যালেন (মলি), মেরউইন
মন্ডেসির (নিক) এবং ইউহান রিদিনগার (জম্বি)। ছবিতে মলি চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য অ্যালেন বেশ প্রশংসাও কুড়ান।










