ভ্যারাইটির মতে, সম্ভাব্য আইনি জটিলতার আশঙ্কায়ই স্ট্রিমিং প্লাটফর্মটি এমন পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভেবেছিল।

তিন পর্বের এ ডকু সিরিজে ২০০৫ সালে মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে হওয়া ফৌজদারি মামলাটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভ্যারাইটিকে এক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ট্রেলার প্রকাশের পর সিরিজটি সরিয়ে নেয়া খুবই বিব্রতকর হতো। সেটি নিজেই বড় একটি খবর হয়ে যেত।’

ওই সূত্রসহ আরো দুজন ভ্যারাইটিকে জানান, ডকু সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়ার পর এবং মুক্তির মাত্র কয়েক দিন আগে নেটফ্লিক্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্পটি বাতিল করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছিলেন। তাদের প্রধান উদ্বেগ ছিল মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ। বিভিন্ন বিষয়ে মামলা করার প্রবণতার জন্য এস্টেটটির সুনাম রয়েছে। পাশাপাশি জ্যাকসনের অনুরাগীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও নেটফ্লিক্সের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।

প্রথম সূত্র বলেন, ‘ভক্তদের চেয়ে এস্টেটের সম্ভাব্য মামলাই বেশি ভয়ের ছিল। তাদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নেটফ্লিক্স সত্যিই উদ্বিগ্ন ছিল।’

তবে এসব দাবি অস্বীকার করেছে নেটফ্লিক্স। ভ্যারাইটিকে দেয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বাইরের চাপের কারণে নেটফ্লিক্স মুক্তির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছে বা অবস্থান পরিবর্তন করেছে, এমন দাবি সঠিক নয়। সিরিজটি পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তি পেয়েছে এবং টানা তিন সপ্তাহ নেটফ্লিক্সের টপ টেনে ছিল।’

ভ্যারাইটির জানা মতে, নানা আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের সঙ্গে জ্যাকসন এস্টেটের কোনো যোগাযোগ হয়নি। যদিও এস্টেটের একজন মুখপাত্র মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

তবে একটি সূত্র জানায়, ডকু সিরিজটি নিয়ে অসংখ্য অভিযোগমূলক ই-মেইল পাওয়ায় নেটফ্লিক্স অসন্তুষ্ট ছিল। পরে তারা জানতে পারে, ওই ই-মেইলের একটি বড় অংশই বটের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ কিছুটা কমে।

ভ্যারাইটির টিভি সমালোচক আরামিদে তিনুবু তার পর্যালোচনায় লিখেছেন, ‘এ সিরিজে মামলা থেকে জ্যাকসনের খালাস পাওয়ার পেছনের ঘটনা ও তথ্য তুলে ধরা হলেও এটি মূলত আমাদের সমাজের তারকাপূজা, জনসাধারণ কাকে বিশ্বাস করতে চায় এবং কেন বিশ্বাস করে, সে প্রবণতারই বিশ্লেষণ।’

তবে সিনেমাটি স্ট্রিম শুরু হওয়ার পর ভালোই সাড়া পেয়েছে। মুক্তির প্রথম পাঁচদিনে ডকু সিরিজটি ১ কোটি ৭৮ লাখ ভিউ পেয়েছে। এটি ৬১টি দেশে টিভি চার্টের শীর্ষে ওঠে এবং ৮৯টি দেশের নেটফ্লিক্স টপ টেনে স্থান করে নিয়েছে।

সূত্র: ভ্যারাইটি