পুরনো বছর, পুরনো গ্লানি, যা কিছু অসুন্দর তা বাদ দিয়ে নতুন দিনে নতুন জীবন শুরু করার বার্তা নিয়ে এসেছে পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ মানে আনন্দ, পহেলা বৈশাখ মানে উদযাপন, নতুন পরিকল্পনা ও নতুন করে পথচলা। বিনোদন অঙ্গনও নতুন বছরে সাজছে নতুন করে। সে বিষয়েই বণিক বার্তার কথা হলো কয়েকজন তারকার সঙ্গে। আলাপচারিতায় ছিলেন অহিদুর রহমান ও মাহমুদুর রহমান—

আমাদের ঐতিহ্য যেন ধরে রাখি

ফাহমিদা নবী

শিল্পী ফাহমিদা নবী মনে করেন, বাঙালি পরিচয়টা পহেলা বৈশাখের দিনেই সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কৃষ্টি-কালচার, আনন্দ সবকিছুই এ উৎসবের মধ্যে প্রকাশ পায়। বাঙালিরা কেন এত উচ্ছল, সুখে-দুঃখে প্রাণবন্ত তার একটা বড় কারণ এ উৎসবমুখরতা। সবচেয়ে ভালো লাগে, এখনো স্বর্ণের দোকান থেকে ফোন দেয় হালখাতার জন্য। গেলে মিষ্টি খাওয়ায়। আনন্দটা আগে বেশি ছিল, এখন তেমন যাওয়া হয় না, তবে বিষয়টা এখনো আছে।’

মানুষ বৈশাখ ভুলে যাচ্ছে, এটা ঠিক না। বৈশাখের অনেক গান আছে, কিন্তু সব গান মানুষের কাছে পৌঁছায় না। এখন যেটা ভাইরাল হয়, মানুষ সেটাই বেশি শোনে। যেমন রবীন্দ্রনাথের ‘‌এসো হে বৈশাখ’ গানটা মানুষ এত গেয়েছে বলেই জনপ্রিয় হয়েছে। এখনো অনেক ভালো গান আছে, তবে সবাই খুঁজে পায় না।

নববর্ষে গান বা নতুন কাজ নিয়ে আসার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক। ফাহমিদা বলেন, ‘বৈশাখ নিয়ে গান করার চিন্তা আছে, তবে ভালো গান পেতে হবে। এখন একটি গানকে জনপ্রিয় করতে অনেক বড় বাজেট লাগে।’

এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে তিনি বলেন, এবার বাসায় পরিবারের সবার সঙ্গে উদযাপন করব।

নতুন বছর বয়ে আনুক সুখ ও শান্তি

দিলশাদ নাহার কনা

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে দিলশাদ নাহার কনা বলেন, ‘নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ-শান্তি ও আনন্দ। সবাই পরিবারের সঙ্গে ভালো থাকুক, আনন্দে থাকুক।

আমার নববর্ষ আসলে ব্যস্ততায় কাটবে। এ মুহূর্তে টানা বেশ কয়েকটি স্টেজ শো রয়েছে। গত কয়েকদিন স্টেজ শোতে পারফর্ম করেছি, আজ ও আগামীকালও স্টেজ শোতে পারফর্ম করব এবং আগামী আরো দু-তিনদিন স্টেজ শোতে ব্যস্ততা রয়েছে। একজন সংগীতশিল্পী নতুন নতুন নিজের মৌলিক গান প্রকাশের পাশাপাশি স্টেজ শোতেও নিয়মিত গান গাইতে চান। সেদিক দিয়ে পরম সৌভাগ্য প্রতিনিয়ত আমার নতুন মৌলিক গান প্রকাশিত হয়, আবার স্টেজ শোতেও বেশ ভালো ব্যস্ততা রয়েছে। আমার সঙ্গে যারা সবসময় মিউজিশিয়ান হিসেবে আছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা।’

এদিকে আগামীকাল কনার জন্মদিন। সেদিনও স্টেজ শোতেই ব্যস্ত থাকবেন তিনি। কনা বলেন, ‘জন্মদিনের প্রথম প্রহর আর সকালটা বাবা-মা ও পরিবারের অন্যদের সঙ্গে উদযাপন করর। এরপর সন্ধ্যায় একটি শো রয়েছে। সেখানেই সংগীত পরিবেশন করব। আসলে নববর্ষের পাশাপাশি জন্মদিনটাও আমার কাটবে সংগীতের সঙ্গেই। এটা বেশ ভালো বিষয়, কেননা এর মাধ্যমে দুটি দিনই আমার আসলে কাটবে শ্রোতা ও ভক্তদের সঙ্গে।’

উৎসবটা নিজের মতো কাটাব

আহমেদ হাসান সানি

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আহমেদ হাসান সানি। তিনি একাধারে গায়ক, সংগীত পরিচালক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা। সানি জানান, এবারের পহেলা বৈশাখটা তার এক রকম ছুটির মতোই কাটবে। তিনি বলেন, ‘ছুটির দিন যেহেতু, একটু বিশ্রাম নেব। মজা করে খাওয়াদাওয়া করব। বাইরে যাওয়ার তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে চঞ্চল ভাইয়ের (চঞ্চল চৌধুরী) বাসায় দাওয়াত আছে। সেখানে যাব আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। বিয়ের পর এটা আমার প্রথম পহেলা বৈশাখ। এবার স্ত্রীকে সময় দিচ্ছি।’

গানের মানুষ আহমেদ হাসান সানি। ব্যক্তিগত কারণেই কনসার্টে অংশ নিচ্ছেন না এ নববর্ষে। তবে তিনি মনে করেন, নববর্ষ হতে পারে গান প্রকাশের একটি উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, ‘একটা সময় নতুন বছরে গান আসত, ক্যাসেট, অ্যালবাম প্রকাশ হতো। এখন সে রকম হচ্ছে না। কিছু গান আসছে। তবে আরো হওয়া উচিত। আমি মনে করি, পহেলা বৈশাখ, নববর্ষকে কেন্দ্র করে নতুন গান আসা উচিত। আমার নিজেরই গান আসত। তবে এ সময়ে রকস্টার সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’

নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সানি বলেন, ‘নতুন বছর সুন্দর হোক, সফল হোক। সবাই খুব ভালো থাকুন। আরেকটা বিষয় বলতে চাই, নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ পালন করতে পিছপা হবেন না। এটা আমাদেরই উৎসব। আমাদের সংস্কৃতির অংশ।’

আরো ৫০টা নববর্ষ জীবনে আসুক

প্রিয়ন্তি উর্বি

ছোট পর্দার নিয়মিত মুখ প্রিয়ন্তি উর্বি। দর্শক তার অভিনয় পছন্দ করে। নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ, তার পরিকল্পনা ইত্যাদি নিয়ে তিনি বলেন, ‘তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই পহেলা বৈশাখ নিয়ে। আমার হাজবেন্ডের অফিসে একটা ইভেন্ট নিয়ে বেশ চাপ যাচ্ছে। তার ওইদিন ছুটি না-ও থাকতে পারে। একসঙ্গে না থাকলে আসলে উদযাপনটা ভালো হয় না। তবে রান্নাবান্নার কিছু পরিকল্পনা আছে। হয়তো ইলিশ রান্না করব। পান্তা খেতে পারি। সারা বছর পান্তা খাওয়া হয় না। পহেলা বৈশাখে চিন্তা করি খাওয়া যাক না হয়।’

নতুন বছরেও অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন বলে জানান এ অভিনেত্রী। তবে পহেলা বৈশাখে তার কোনো নাটক প্রচারে আসছে না। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষকে কেন্দ্র করে নাটক নির্মাণ হতে পারে। তবে আমার কোনো নাটক এ নববর্ষে আসছে না।’

নতুন বছরে দর্শককে শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাইকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা। অনেকে হয়তো ইংরেজি নববর্ষে অনেক কিছু ভেবেছিলেন। পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তা শেষ অবধি করা হয়নি। বাংলা নতুন বছরে সেসব পরিকল্পনা আবার নিতে পারেন, বাস্তবায়ন করতে পারেন। আর নিজের কথা যদি বলি, আমি চাইব এ রকম আরো ৫০টা নববর্ষ আমার জীবনে আসুক।’