এ চরিত্রে মাম্মুত্তিকে দেখে ‘বিধেয়ান’ (১৯৯৪)-এর ভাস্কর পাটেলকারের কথা মনে পড়তে পারে। তবে আদুর গোপালকৃষ্ণন পরিচালিত সিনেমাটির তুলনায় একেবারেই আলাদা ‘ব্রহ্মযুগ’ (২০২৪)। কুরুমনের হাসি দর্শকের রক্ত হিম করে দিয়েছিল। রাহুল সদাশিব পরিচালিত এ সিনেমায় অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন মাম্মুত্তি। এ বছর পদ্মভূষণ সম্মানে অভিষিক্ত মাম্মুত্তি এক সাক্ষাৎকারে জানালেন, তিনি আসলে সহজাত অভিনয় প্রতিভা নিয়ে জন্মাননি। ধীরে ধীরে শিখেছেন। মূলত মালয়ালম অভিনেতা মাম্মুত্তি। পুরো নাম মোহাম্মদ কুট্টি পনপরমবিল ইসমাইল। অভিনয়ের জন্য চতুর্থবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান জিতে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি ছাড়া কেবল অমিতাভ বচ্চনের ঝুলিতেই আছে এ রেকর্ড। ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ও শ্রদ্ধেয় এ অভিনেতা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মালয়ালম, তামিল, তেলেগু, কন্নড়, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার ৪০০-এরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাতবার কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মানসহ অসংখ্য অর্জন থাকলেও মাম্মুত্তি বরাবরই বলে এসেছেন, তিনি তথাকথিত অর্থে ‘জন্মগত অভিনেতা’ নন। সমসাময়িক মোহনলালের মতো স্বাভাবিকভাবে কমেডি, নাচ কিংবা অ্যাকশনে পারদর্শিতা তার নেই। এসব ক্ষেত্রে সফল হতে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এমনকি একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তার অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও বহুবার স্বীকার করেছেন তিনি। তবে মাম্মুত্তি তার সীমাবদ্ধতা পার করে দর্শকের সামনে হাজির হন।

তার অন্যতম বড় গুণ অসাধারণ আত্মসচেতনতা। নিজের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে তার মতো পরিষ্কার ধারণা খুব কম অভিনেতারই রয়েছে। বহু বছর আগে কাইরালি টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মাম্মুত্তি জানিয়েছিলেন, একজন অভিনেতা হিসেবে তার ‘কোনো ইতিবাচক গুণ নেই’। বরং কঠোর পরিশ্রম ও নিরন্তর চেষ্টার কারণেই তিনি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, ‘অভিনেতা হিসেবে আমার কোনো ইতিবাচক দিক নেই। নেতিবাচক দিকের কথা বললে, আমি নাচতে পারি না, গান গাইতে পারি না, কমেডিও করতে পারি না। অভিনয়ের সময় আমার হাতের কিছু ভঙ্গি হাস্যকর লাগে, হাঁটার ক্ষেত্রেও সমস্যা আছে। আমি অনেক নেতিবাচক দিক দেখি, কিন্তু ইতিবাচক কিছু দেখি না।’
সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, নিজের মধ্যে যদি কোনো ইতিবাচক গুণই না দেখেন, তাহলে এত বৈচিত্র্যময় চরিত্র এত দক্ষতার সঙ্গে কীভাবে ফুটিয়ে তোলেন?

জবাবে মাম্মুত্তি বলেন, ‘সবই আমার কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার ফল। তবে একটি ইতিবাচক দিক যদি বলতেই হয়, সেটা হলো আমি সবসময় চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমার সবচেয়ে বড় লড়াই থাকে, যেন ‘‘মাম্মুত্তি’’ আমার চরিত্রগুলোর মধ্যে ঢুকে না পড়ে। আমি নিশ্চিত করি, আমার অভিনীত চরিত্রগুলো যেন বাস্তব জীবনের আমার মতো না হয়। আমি নিজের চরিত্রে অভিনয় করতে ব্যর্থ। আমি সবসময় অন্য একজন মানুষ হয়ে উঠতেই আগ্রহী।’
বক্স অফিস ব্যর্থতা নিয়ে বেশি চিন্তা করেন না তিনি। কিন্তু কষ্ট পান অন্য ক্ষেত্রে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো সিনেমা বক্স অফিসে ব্যর্থ হলে যতটা কষ্ট পাই, তার চেয়েও বেশি কষ্ট পাই যখন অনেক পরিশ্রমে করা কোনো অভিনয় বা চরিত্র উপেক্ষিত থেকে যায়। সূর্য মানসাম (১৯৯২)-এর মতো চলচ্চিত্র সে তালিকায় পড়ে।’
এ আত্মসচেতনতা ও চেষ্টার ফলেই ১৯৮৯ সালে মথিলুকাল ও ওরু ভাদাক্কান ভীরগাথা সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পান মাম্মুত্তি। এরপর ১৯৯৩ সালে পোন্থান মাডা ও বিধেয়ান-এর জন্য দ্বিতীয়বার এবং ১৯৯৮ সালে ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর–এ অভিনয়ের জন্য তৃতীয়বার এ সম্মান অর্জন করেন।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান










