আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় শুরু হলো নতুন প্রদর্শনী। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে হচ্ছে এ আয়োজন। গুণবতীর আয়োজনে গত শুক্রবার শুরু হয় তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনী ‘শেকড়ের গল্প–বাংলাদেশিত্বের উৎসব’। এ প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় ১১ এপ্রিল, ধানমন্ডিস্থ আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা প্রাঙ্গণে।
গুণবতী একটি দেশীয় জীবনধারাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সম্প্রদায়নির্ভর কাজের মাধ্যমে একটি সচেতন সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করছে। এ প্রদর্শনী গুণবতীর উদ্দেশ্য ও দর্শনকে আরো বিস্তৃতভাবে তুলে ধরবে। প্রদর্শনীতে উন্মোচন করা হবে গুণবতীর নতুন বাঁশনির্মিত রান্নাঘরের সামগ্রীর সংগ্রহ ‘রান্নাঘরের অনুষঙ্গ’, যা ফরিদপুর জেলার ঋষিপাড়ার কারুশিল্পীদের হাতে তৈরি। এ পণ্যের প্রতিটি উপাদান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশা ও ব্যবহারিক প্রয়োজনের এক সফল সমন্বয়।
গুণবতীর একজন মুখপাত্র বলেন, ‘শেকড়ের গল্পের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন ব্যবহৃত জিনিসের নীরব শক্তি ও গৃহিণীদের সৃজনশীল ক্ষমতাকে সম্মান জানাতে চাই। এটি কেবল একটি প্রদর্শনী নয়—এটি এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যা ঐতিহ্য সংরক্ষণ, কারিগরদের ক্ষমতায়ন ও টেকসই জীবনধারা চর্চার প্রসারে নিবেদিত।’
গত শুক্রবার শুরু হওয়া এ আয়োজন শেষ হবে আগামীকাল। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী। এর সঙ্গে রয়েছে আরো কিছু আয়োজন। উদ্বোধনী আয়োজনে ছিল ‘গুণ যাপন’। গতকাল ছিল স্মৃতিযাপন নামের কর্মশালা। কারুশিল্পীদের সঙ্গে হাতে-কলমে বাঁশ বুননের কর্মশালা চলেছিল বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এরপর ছিল আলোচনা সভা। আলোচনা হয় দেশীয় জীবনধারার ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে।
আজ তৃতীয় দিন থাকছে শিল্পকর্ম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘সুর যাপন’। প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে চিত্রাঙ্কন ও পুনর্ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা হবে বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। সংগীত সন্ধ্যা হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য হলো ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করা এবং সংস্কৃতির আলোকে ভবিষ্যৎ কল্পনা করা—যেখানে যত্ন, সৃজনশীলতা ও ঐতিহ্য একত্রে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।










