গত বছর আপনার নির্মিত প্রথম সিনেমা নয়া মানুষ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। সিনেমাটি দর্শক কতটা গ্রহণ করেছিল?

দর্শকের কাছে এখন সিনেমা পৌঁছে দেয়া অনেক কঠিন। তবে যারাই দেখছেন, তারা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

দর্শকের কাছে সিনেমা পৌঁছে দেয়া কঠিন কেন?

সিনেমা হলে দর্শক হোক, এটা হয়তো আমরা শিল্প-সংস্কৃতির মানুষ চাই না। তাই বছরের পর বছর হা-হুতাশ করছি। কিন্তু যা করলে সংস্কৃতির উন্নতি হবে, তেমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না। তাছাড়া চলচ্চিত্র শিল্প ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু শিল্পের কোনো সুবিধা পাচ্ছি না। ফলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারছি না।

প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ ও মুক্তির ক্ষেত্রে কী কী বাধার সম্মুখীন হয়েছেন?

চলচ্চিত্র নির্মাণ ও মুক্তির ক্ষেত্রে সবাই অনেক সহযোগিতা করেছেন, কিন্তু এ দেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হলে কাঠামোগত কারণে অনেক বাধা মোকাবেলা করতে হয়। আমারও তাই করতে হচ্ছে।

চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক দিক নিয়ে কতটা আশাবাদী?

এক সময় চলচ্চিত্র ব্যবসা যারা করতেন, তাদের লক্ষ্য ছিল শিল্পকে টিকিয়ে রাখা। তাই তারা অতিমুনাফার চিন্তা করতেন না। কিন্তু এখন যেসব মধ্যস্বত্বভোগী আছেন, তারা এমন আচরণ করেন যেন চলচ্চিত্র দিয়ে তারা কোনো মুনাফাই করতে পারেন না। তবে আমাদের সিনেমার মূলধন ফিরে আসবে। কারণ সিনেমা এখন ডিজিটাল মাধ্যম থেকে ধীরে ধীরে আয় করে।

সিনেমা নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

পরবর্তী সিনেমার জন্য বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি নিয়ে কাজ চলছে। আশা করি, এ বছরের শেষ দিকে দ্বিতীয় সিনেমার চিত্রগ্রহণের কাজ শুরু করতে পারব।

ভবিষ্যতে বাংলা সিনেমা জন্য আপনি কী ভূমিকা রাখবেন?

চলচ্চিত্র কর্মী হিসেবে চলচ্চিত্র নির্মাণ করব এবং নির্মাতা হিসেবে যেসব সমস্যা আমরা মোকাবেলা করছি, পরবর্তী প্রজন্ম যেন সেসব সমস্যায় না পড়ে তার জন্য কাজ করব।

একজন তরুণ নির্মাতা হিসেবে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির উত্তরণে আপনার পরামর্শ জানতে চাচ্ছি।

চলচ্চিত্র যেহেতু একটা শিল্প, তাই শিল্প হিসেবে যেসব সুবিধা পাওয়া উচিত যেমন ব্যাংক লোন, ইন্স্যুরেন্স সুবিধা, বক্স অফিস সর্বোপরি দায়িত্বশীলদের এ নিয়ে আন্তরিকতা ও সৎ প্রচেষ্টা কামনা করছি।