জনপ্রিয় নির্মাতা শিহাব শাহীন। নির্মাণের ভিন্নতার কারণে তার কনটেন্টের প্রতি দর্শকের আগ্রহ থাকে বরাবরই। প্রতি বছরই নতুন নতুন কনটেন্ট নিয়ে হাজির হন এ নির্মাতা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। সামনে আসছে তার ওয়েব সিরিজ ‘ক্যাকটাস’। এছাড়া এ বছর তার কাজের পরিকল্পনা, ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত প্রত্যাশা সব মিলিয়ে আশায় আছেন তিনি। সামনে নির্বাচন। সংস্কৃতিবান্ধব সরকার হোক, এটাই প্রত্যাশা তার। সামনের দিনগুলোয় কী করতে চান, দর্শকের কাছেইবা কী প্রত্যাশা, এসব নিয়েই কথা বলেছেন শিহাব শাহীন।

নতুন বছরকে সামনে রেখে কাজের পরিকল্পনায় ভিন্নতা আনতে চান শিহাব শাহীন। তিনি বলেন, ‘এ বছর নতুন ঘরানায় কাজ করা এবং একেবারে নতুন কনটেন্ট নিয়ে এগোনোই মূল লক্ষ্য। নতুন কনটেন্টের ওপর জোর থাকবে এবং বছর শেষে একটি সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।’ এখন থেকে সিনেমাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিতে চান এবং আশা করছেন, বছরের শেষ দিকে সিনেমার কাজ শুরু করা যাবে। নিয়মিত কাজের ধারাবাহিকতায় সিরিজ নিয়েও ভাবনা আছে তার।

তিনি জানান, সামনে ড্রামা, থ্রিলার ও অ্যাকশন ঘরানার ক্যাকটাস নামে একটি সিরিজ আসছে, যার গল্প আবর্তিত হবে এক তরুণ হ্যাকারকে ঘিরে। এ সিরিজে মেহজাবীন ও প্রীতমকে দর্শক ভিন্নভাবে দেখবে এবং গল্প ও নির্মাণের ধরন দর্শকের ভালো লাগবে বলে তিনি আশাবাদী।

দর্শকের জন্য নতুন প্রজেক্ট নিয়েও আশার কথা শোনান এ নির্মাতা। তিনি জানান, এ বছর নতুন সিনেমা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া রয়েছে ‘এলেন স্বপন থ্রি’, পাশাপাশি ‘গোলাম মামুন ২’ নিয়েও আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এসব কাজ দর্শকের সামনে আনার চেষ্টা থাকবে।

গত বছরের অভিজ্ঞতা নতুন বছরে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাও তুলে ধরেন তিনি। গত বছর কনটেন্ট নির্মাণ সবার জন্যই হতাশাজনক ছিল। সে অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে সামনে এগোতে চান তিনি।

সামনে নির্বাচন প্রসঙ্গে এ নির্মাতা বলেন, ‘সংস্কৃতিবান্ধব সরকার এলে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষের মনেও শান্তি ফিরবে। মানুষের মনে শান্তি না থাকলে তারা বিনোদনের দিকেও আগ্রহ হারায়। তাই ব্যক্তিগত থেকে রাষ্ট্রীয় সব স্তরেই শান্তি খুব জরুরি।’

সিনেমা মুক্তির ধারা নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করেন শিহাব। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের সিনেমা অনেকটাই ঈদকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। এ ধারা ভাঙার চেষ্টা থাকবে এবং ঈদের বাইরেও আমার সিনেমা মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থাও তাকে ভাবাচ্ছে। এ নিয়ে তিনি জানান, এখন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ অনেক কমে গেছে এবং সময়টা ভালো যাচ্ছে না। আশা করি এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটবে এবং নতুন সরকার সংস্কৃতিবান্ধব হলে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি সম্ভব হবে।

চলতি বছর কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনেও কিছু প্রত্যাশা আছে তার। এ বছর দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। কাজের পাশাপাশি একটু ভ্রমণের ইচ্ছা আছে এবং ইউরোপ যাওয়ার কথাও ভাবছেন তিনি। সবকিছু অনুকূলে থাকলে এ বছরই সে চেষ্টা করবেন বলে জানান।

সবশেষে দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশেও নিজের অনুভূতির কথা বলেন তিনি। তারা নিয়মিত কনটেন্ট নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন এবং দর্শককে পাশে চান। বিশেষ করে দুঃসময়ে আরো বেশি সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। বাংলাদেশের সিনেমা, গান ও নাটকের সঙ্গেই থাকার অনুরোধ তার। কারণ তার কাছে দর্শকের পাশে থাকাই হলো নতুন ও ভালো কাজ করার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।