হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত এ ট্রেলারেই প্রথমবারের মতো ভগবান রামের চরিত্রে রণবীর কাপুরের পূর্ণাঙ্গ উপস্থিতি দর্শকের সামনে আসে। মহাকাব্যিক এ উপস্থাপনায় শুরুতেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ, সামাজিক মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা এবং দর্শকের উচ্ছ্বাস।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নিতেশ তিওয়ারি। তিনি এর আগে ‘দঙ্গল’-এর মতো সুপারহিট চলচ্চিত্র নির্মাণ করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। নতুন এ প্রকল্প প্রযোজনা করছে প্রাইম ফোকাস স্টুডিওস, বিশ্বখ্যাত ভিএফএক্স প্রতিষ্ঠান ডিএনইজি এবং অভিনেতা যশের প্রযোজনা সংস্থা। প্রাচীন সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত এ চলচ্চিত্র আধুনিক প্রযুক্তি, বিশাল সেট ও চমকপ্রদ ভিজুয়াল প্রভাবের মাধ্যমে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে।
ছবির অভিনয়শিল্পীদের তালিকাও দারুণ সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। রামের চরিত্রে রণবীর কাপুরের পাশাপাশি সীতার ভূমিকায় রয়েছেন সাঁই পল্লবী এবং রাবণের চরিত্রে দেখা যাবে যশকে। এছাড়া লক্ষ্মণ হিসেবে রবি দুবে, হনুমান চরিত্রে সানি দেওল, মন্দোদরী হিসেবে কাজল আগরওয়াল এবং সূর্পণখা চরিত্রে রাকুল প্রীত সিং অভিনয় করেছেন। আরো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন অরুণ গোভিল, কুনাল কাপুর, শিবা চাড্ডা এবং কৈকেয়ী চরিত্রে লারা দত্ত।
চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিচালনা করছেন দুই বিশ্বখ্যাত সুরকার হান্স জিমার এবং এআর রহমান। তাদের এ যুগলবন্দি নিয়ে দর্শকের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। জানা গেছে, ছবিটি দুই পর্বে মুক্তি পাবে। প্রথম অংশ ২০২৬ সালের দীপাবলিতে এবং দ্বিতীয় অংশ ২০২৭ সালের দীপাবলিতে। পুরো প্রকল্পের বাজেট প্রায় ৫০ কোটি ডলার, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিনিয়োগ।
কাহিনীতে দেখা যাবে, নির্বাসিত রাজপুত্র রাম ও তার স্ত্রী সীতার শান্ত জীবন, যা ভেঙে যায় রাবণের হাতে সীতার অপহরণের মধ্য দিয়ে। এরপর শুরু হয় ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার এক মহাকাব্যিক সংঘর্ষ। প্রথম পর্বে সীতাহরণের ঘটনায় গল্পের মোড় ঘুরবে, দ্বিতীয় পর্বে থাকবে রামের যুদ্ধ, মিত্র জোট গঠন এবং রাবণ বধের চূড়ান্ত অধ্যায়।
উল্লেখ্য, প্রাচীন হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণ বিভিন্ন প্রজন্ম ও ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে পর্দায় রূপ পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় রূপটি হলো রামানন্দ সাগর নির্মিত ঐতিহাসিক টেলিভিশন সিরিজ ‘রামায়ণ’। এটি ১৯৮৭-৮৮ সাল পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম দূরদর্শনে প্রচার হয়। সিরিজটি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে শতকোটি দর্শককে আকৃষ্ট করে এবং এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক ঘটনায় পরিণত হয়।
১৯৪৩ সালে বিজয় ভাট পরিচালিত ভক্তিমূলক চলচ্চিত্র ‘রাম রাজ্য’-র মাধ্যমে এ কাহিনী সিনেমার পর্দায় আসে। ছবিটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি ছিল মহাত্মা গান্ধীর দেখা একমাত্র চলচ্চিত্র।
নিতেশ তিওয়ারির আগে রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’-এ সীতার চরিত্রে অভিনয় করা দীপিকা চিকলিয়াও নুতন রামায়ণের ট্রেলার পর্যালোচনা করে বলেছেন, ‘আমি ট্রেলারটি দেখেছি, এটি খুবই জমকালো। খুব সমৃদ্ধ লাগছে। তারা খুব ভালোভাবে তৈরি করেছে। তাই এখন আমি সিনেমাটির অপেক্ষায় আছি।’
কিছু দর্শক দাবি করেছেন যে রণবীর এ ভূমিকার জন্য উপযুক্ত নন। সব মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণ ও শক্তিশালী তারকাবহুল অভিনয়ের সমন্বয়ে দুই পর্বের রামায়ণ সিনেমা হয়ে উঠতে পারে ভারতীয় সিনেমার নতুন এক মাইলফলক, এমনটাই প্রত্যাশা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের।
সূত্র: ভ্যারাইটি ও হিন্দুস্তান টাইমস









