অস্কার প্রতিযোগিতায় পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের পাঁচটি চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে লিসা গাজীর ‘বাড়ির নাম শাহানা’-কে চূড়ান্ত করেছে অস্কার বাংলাদেশ কমিটি। গতকাল সকালে ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
৯৮তম অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য এ মাসের শুরুতে আবেদন আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি সিনেমা জমা পড়ে—‘সাবা’, ‘বাড়ির নাম শাহানা’, ‘নকশিকাঁথার জমিন’, ‘প্রিয় মালতী’ ও ‘ময়না’। এর মধ্যে ‘বাড়ির নাম শাহানা’ মুক্তি পেয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অস্কার কমিটির সদস্য, চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিরা, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একাডেমির নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) তত্ত্বাবধানে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘অস্কার বাংলাদেশ কমিটি’ গঠিত হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সমালোচক সাজ্জাদ শরিফ, চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান, চলচ্চিত্র প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি, পরিচালক শাহীন দিল-রিয়াজ ও চলচ্চিত্র শিক্ষক এসএম ইমরান হোসেন।
২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর কমিটির সদস্যরা জমা পড়া চলচ্চিত্রগুলোর স্ক্রিনিং ও পর্যালোচনা করেন।
বাংলাদেশ থেকে অস্কারে মনোনীত হওয়ার পর বাড়ির নাম শাহানার অন্যতম প্রযোজক আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমার যে টিম, কাজের বাইরেও তাদের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। শুরু থেকেই আমি তাদের বিশ্বাস করেছি। আজকের এ ঘোষণা আমাকে মনে করে দিয়েছে, বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা গেছে।’
চলচ্চিত্রটি নব্বইয়ের দশকের পটভূমিতে কিশোর বয়স পার হওয়ার আগেই বিয়ে হওয়া দীপার গল্প নিয়ে নির্মিত। স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে দীপার লড়াই, তার স্বাধীনভাবে বাঁচার চেষ্টার গল্পকে সত্য কাহিনীর অবলম্বনে তুলে ধরা হয়েছে।
দীপা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনান সিদ্দিকা। সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে কমলা কালেকটিভ ও গুপী বাঘা প্রডাকশনস লিমিটেড। আগে তথ্যচিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকলেও লিসা গাজীর এটি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। চিত্রনাট্য রচনায় তার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন আনান সিদ্দিকা।










