নাটকের অন্যতম চরিত্র রৌদ্র। সে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। লেখাপড়া শেষে কয়েকটি চাকরি পাওয়ার পরও যোগ দেয়নি। কারণ রৌদ্র মনে করে, তার চেয়ে অন্য প্রার্থীদের চাকরির বেশি প্রয়োজন। অন্যদিকে ভাবনা শিল্পপতি বাবার সন্তান। তার মধ্যে বড়লোকসুলভ কোনো আচরণ নেই। লেখাপড়া শেষ করে সে তার বাবার কোম্পানি দেখাশোনা করছে। একদিন রৌদ্র এ অফিসে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে আসে। তার চাকরি হয়েও যায়, কিন্তু চাকরিতে যোগ দেয়ার আগে কোম্পানিকে কিছু শর্ত দেয়। রৌদ্রের কথায় মুগ্ধ হয়ে ভাবনা সব শর্ত মেনে নেয় এবং তাকে নিয়োগ দেয়। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেলে। ভাবনা রৌদ্রকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে রৌদ্র আবারো কিছু শর্ত দেয়। শর্ত মেনেই দুজনের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পরও নিজেকে বদলাতে পারে না রৌদ্র। কিছু বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। ফলে ভাবনা দেশের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে রৌদ্রও ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে। সে ভাবে ভাবনাকে নিয়ে যে শহরে শত-শত ফুল ফোটাতে চেয়েছিল সে শহর ঘুমিয়ে গেছে। রৌদ্র নিজেও শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার মনে হতে থাকে, আদৌ কি শহরের ঘুম ভাঙবে?

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, নাটকের গল্পটি এ শহরের, এই সময়ের মধ্যবিত্ত মানসিকতা, শহুরে জীবন ও টানাপড়েন নিয়ে। শহর যেন ঘুমিয়ে আছে অনেক দিন। একদিন হয়তো তার ঘুম ভাঙবে। সে আশারই নাম ‘ঘুম ভাঙা শহরে’।

রেজাউর রহমান ইজাজের রচনায় নাটকটি প্রযোজনা করেছেন আফরোজা সুলতানা। অভিনয় করেছেন তনয় বিশ্বাস, লাবণ্য চৌধুরী, মিলি বাশার, বিমল ব্যানার্জি, দিলু মজুমদার, বিন্দু রোজারিও, শামস আরেফিন ও আরাফাত। আজ রাত ৯টায় প্রচার হবে ঘুম ভাঙা শহরে।