শুক্রবার ঢাকার ১০০ ফুটের মাদানী এভিনিউয়ের কোর্টসাইডে অনুষ্ঠিত হয় ‘মেইন স্টেজ ফিচারিং আতিফ আসলাম লাইভ ইন ঢাকা’ শীর্ষক এ কনসার্ট। কনসার্ট স্থলে শুরু থেকেই ছিল দর্শকের ঢল। সন্ধ্যা গড়াতেই পুরো ভেন্যু কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, চারদিকে সরগরম হয়ে ওঠে হাজারো ভক্তের পদচারণে। ‘এ হাওয়া’ দিয়ে পরিবেশনা শেষ করে রাত সাড়ে ৮টায় মঞ্চ থেকে নামে মেঘদল। সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকসারিতে ধ্বনিত হতে থাকে ‘আতিফ, আতিফ’। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ভেন্যু সে ডাকে মুখর হয়ে ওঠে। প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে মঞ্চে আসেন তিনি। তার আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে দর্শক।

‘তু চাহেয়ি’ দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন আতিফ আসলাম। এরপর টানা দুই ঘণ্টায় গেয়ে শোনান তার জনপ্রিয় ‘তেরা হোনে লাগা হুন’, ‘জিনা জিনা’, ‘দিল দিয়া গাল্লা’, ‘ম্যায় তেনু সামজাওয়ান কি’, ‘সো জানে দো’, ‘ও রে প্রিয়া’, ‘মেরে পিয়া ঘার আয়া’, ‘আউগে যাব তুম ও সাজনা’, ‘এক প্যায়ার কা নাগমা হে’, ‘পেহলি নাজর মে’, ‘পেহলা নাশা’, ‘কেয়া হুয়া তেরা ওয়াদা’, ‘মেরা গীত আমার কর দো’, ‘কুছ ইস তারাহা’, ‘ওহ লামহে’, ‘তেরে লিয়ে’, ‘পেহেলি দফা’সহ আরো কিছু গান। প্রতিটি গানের শুরুতেই দর্শকের করতালি আর চিৎকারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ভেন্যু। শুধু শোনা নয়, শিল্পীর সুরের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারাও। হাজারো কণ্ঠে গান গেয়ে ওঠার সে দৃশ্য পরিণত হয় এক অনন্য মুহূর্তে। কেউ দুলছিলেন সুরের তালে, কারো হাতে জ্বলছিল মুঠোফোনের আলো, আবার কেউ চোখ বন্ধ করে গুনগুন করছিলেন প্রিয় শিল্পীর সঙ্গে। আতিফ আসলাম ছাড়াও এ আয়োজনে গান পরিবেশন করে দেশের আলোচিত দুই ব্যান্ড—মেঘদল ও লেভেল ফাইভ।

এ কনসার্টে অংশ নিতে গত বুধবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান আতিফ। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন ‘ক্রাউন প্লাজা’ হোটেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে কনসার্টের পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রোতা, কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা, নিজের নতুন অ্যালবাম, সংগীত জীবন ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

এদিকে বড় জনসমাগমের কথা বিবেচনায় রেখে অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেয়া হয়েছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‍্যাব ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের সমন্বয়ে পুরো ভেন্যুতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছিল আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেইন স্টেজ। ভেন্যুর প্রবেশপথে ছিল একাধিক নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট, দর্শকের পরিচয় যাচাই ও তল্লাশির পরই প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে নির্ধারিত এ কনসার্ট নিরাপত্তাজনিত ছাড়পত্র না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে গিয়েছিল, যা নিয়ে হতাশ হয়েছিলেন হাজারো ভক্ত। সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে অবশেষে প্রিয় এ শিল্পীকে সরাসরি মঞ্চে দেখার সুযোগ পেলেন বাংলাদেশের ভক্তরা।