চলচ্চিত্র ও নাট্য অভিনেতা মনির আহমেদ। ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘নীলচক্র’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। বিনোদন অঙ্গনে শাকিল নামেই তার পরিচিতি বেশি। সিনেমা, নিজের ক্যারিয়ার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান।

‘নীলচক্র’ সিনেমায় আপনার অভিনীত খল চরিত্র জ্যাক নিয়ে দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন পেলেন?

জ্যাক চরিত্রটি একটি নেগেটিভ চরিত্র। সিনেমাটিতে আমার চরিত্র নিয়ে অনেক সাড়া পাচ্ছি। যারা আমার পরিচিত তারা চরিত্রটির প্রশংসা করছেন। যারা প্রথমবার কাজ দেখেছেন তাদের প্রশংসা বা সমালোচনা বেশি গ্রহণযোগ্য। এমন সাধারণ দর্শকের প্রশংসা অনেক পেয়েছি। ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে রিভিউ দেখছি, কাছের মানুষেরা ফোন করেছেন। অভিনেতা হিসেবে এটা বড় প্রাপ্তি।

নীলচক্রে খল চরিত্রে আপনার কাস্টিং হলো কীভাবে?

নীলচক্রের পরিচালক আমাকে কল দিয়েই চরিত্রের বিষয়ে বলেছেন। এছাড়া এ সিনেমার রাইটার জ্যাক ক্যারেক্টারটা লিখে পরিচালককে বলেছে যে জ্যাক চরিত্রটা আমি শাকিল ভাইয়ের জন্য লিখেছি। এর আগে সুড়ঙ্গ সিনেমার কাহিনী লিখেছেন নাজিম উদ দৌলা, সে সিনেমাটিতেও আমি অভিনয় করেছিলাম। সুড়ঙ্গতে কাজ করা থেকে নাজিম আমার কাজ পছন্দ করে। সে জায়গা থেকে রাইটারের একটা চাওয়া ছিল যে জ্যাক চরিত্রটা আমি করি। এভাবেই নীলচক্রতে জ্যাক চরিত্রে আমি কাস্টিং পাই।

নীলচক্র ছাড়াও আপনি অসংখ্য সিনেমায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। একেক চরিত্রে নিজেকে ভাঙা আপনার জন্য কতটা সহজ হয়েছে?

আমি দীর্ঘ‍দিন থিয়েটার করেছি। এখন যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তবে কিছু চরিত্রে চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকে। কারণ ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে আমার আচার-আচরণ স্টাইল ভঙ্গি আরোপিত হয়ে যাওয়ার একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। যখন আমি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে যাই, তখন আমাকে খেয়াল করতে হয় এটা আরোপিত হয়ে যায় কিনা। আরোপিত হয়ে গেলে ক্যারেক্টরটা ফেল করবে। ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় চ্যালেঞ্জ একটু থাকেই। যেহেতু দীর্ঘদিন থিয়েটারে করছি তাই সে জায়গা থেকে চ্যালেঞ্জটা নিতে ভালো লাগে।

নীলচক্র ছাড়া আপনার অভিনীত সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য কোন সিনেমায় কাজ করেছেন?

আমি সাম্প্রতিক হিট হওয়া বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছি। এ ঈদে নীলচক্র ছাড়া ‘তাণ্ডব’, গত ঈদে ‘জংলি’ আর এর আগে ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘ফ্রাইডে’তে ছিলাম। সবক’টি সিনেমায়ই আমার ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র ছিল। পর্দায় প্রতিটি সিনেমায় আমার উপস্থিতি সমান ছিল এমনটা নয়, এর পরও প্রতিটি চরিত্রের অভিনয় দর্শক প্রশংসা করেছেন।

আপনার অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে জানতে চাই

আমার ক্যারিয়ার দীর্ঘদিনের। সিনেমায় আমি দীর্ঘদিন ধরেই নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করি। শুরুটা হয়েছিল ২০০৯ থেকে। এরপর প্রায় প্রতি বছরেই আমার অভিনীত সিনেমা মুক্তি পায়। কিন্তু আমি বাংলাদেশে দুর্ভাগ্যবশত একজন অবমূল্যায়িত অভিনেতা। যে নির্মাতারা আমাকে চেনেন এবং আমার সম্পর্কে জানেন তারাই আমাকে সিনেমায় কাস্টিং করেন। বাংলাদেশে অনেক নির্মাতার সঙ্গেই কাজ করা হয়েছে। অনেক সাধের ময়না, ও আমার দেশের মাটিসহ আরো অনেক সিনেমায় কাজ করেছি। কিন্তু ওই সময়ে আমাদের সিনেমায় একটা নষ্ট প্রক্রিয়া চলছিল, ফলে দর্শক হল বিমুখ হয়ে গিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘদিন অনেক ভালো সিনেমার সঙ্গে আমি ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে থিয়েটার ও টেলিভিশনে কাজ করছি। তবে আমার সৌভাগ্য এ জায়গায় যে দুই বছর ধরে কয়েকটা হিট সিনেমার সঙ্গে আমি আছি।

আগামী নতুন কাজের খবর...

তিনটা সিনেমার কাজের ব্যাপারে কথা চলছে। এখনো যেহেতু চু্ক্তি হয়নি তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। যেহেতু আমি প্রফেশনাল অভিনেতা, তাই ছোট পর্দার একক নাটক থেকে ধারাবাহিকের শুটিং করছি। কিছু ওয়েব সিরিজ, ওয়েব ফিল্মের কথাবার্তা চলছে।