স্কুলের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার মতো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকেও যেতে হয় পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। সেটা অবশ্য কোনো বোর্ড বা প্রতিষ্ঠান নেয় না। বক্স অফিস, সমালোচক ও দর্শক প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে বিনোদন গণমাধ্যমগুলো তালিকা করে থাকে। এছাড়া চর্চার ভিত্তিতে বোঝা যায় কোন সিনেমা আছে সেরার কাতারে। এ বছরের অর্ধেক শেষ হতে সেরার তালিকায় থাকা ১০টি সিনেমার খবর জানাবে এ লেখা। এ ১০ সিনেমা বাছাই করেছে বিনোদন গণমাধ্যম ভ্যারাইটি।
দি আলটো নাইটস: সিনেমাটি নিয়ে তেমন কোনো কথা হয়নি। ব্যারি লেভিনসন পরিচালিত দি আলটো নাইটস লিখেছেন নিকোলাস পিলেগি। অনেকে গুডফেলাসের সঙ্গে এর মিল দেখেছেন, তবে সিনেমাটি ট্রু-লাইফ ড্রামা, যেখানে সাইকোপ্যাথলজি নিয়ে কাজ করেছেন নির্মাতারা। অভিনয় করেছেন রবার্ট ডি নিরো, দেব্রা মেসিং, কসমো জার্ভিস, ক্যাথরিন নার্দুচ্চি প্রমুখ। গুডফেলাস, গডফাদারের মতো সিনেমা যারা পছন্দ করেন, তারা আলটো নাইটসও পছন্দ করবেন।

ব্ল্যাক ব্যাগ: স্টিভেন সোদেরবার্গ পরিচালিত ব্ল্যাক ব্যাগ মূলত স্পাই থ্রিলার। তবে এ স্পাই থ্রিলারের স্পাইটি জেমস বন্ডের মতো নয়। তিনি স্ত্রীর অনুরক্ত। জর্জ উডহাউজ নামের স্পাইকে নিয়ে নির্মিত সোদেরবার্গের সিনেমায় জর্জ ও তার স্ত্রী ক্যাথরিনের সম্পর্ককে স্পাই থ্রিলারের মূল গল্পের পাশে উপস্থাপন করা হয়েছে দারুণভাবে। দুনিয়াকে বাঁচানোর পাশাপাশি তারা নিজেদের সম্পর্ক নিয়েও সচেতন। জর্জ উডহাউজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাইকেল ফাসবেন্ডার ও তার স্ত্রী ক্যাথরিনের চরিত্রে আছেন কেট ব্ল্যানচেট। সিনেমায় আর্থার স্টিলগিটয চরিত্রে অভিনয় করেছেন পিয়ার্স ব্রসন্যান।
ব্রিং হার ব্যাক: হরর জনরায় নতুন সংযোজন। ড্যানি ও মাইকেল ফিলিপ্পো পরিচালিত সিনেমাটি দর্শকের ঘুম কেড়ে নেয়ার মতো। অভিনয় করেছেন স্যালি হকিংস, জন রেন ফিলিপস, বিলি ব্যারেট প্রমুখ। স্যালি এ সিনেমায় ১৭ বছর বয়সী অ্যান্ডি ও তার অন্ধ বোন পাইপারের সৎ মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। তার আরো একটি পালক সন্তান আছে। এ কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে স্যালির সম্পর্ক, ব্যবহার ইত্যাদি নিয়ে সিনেমার গল্প। কিছু দৃশ্য রীতিমতো দর্শকের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। নির্মাতারা চেয়েছেন দর্শককে শিহরিত করতে আর সেখানে তারা সক্ষম হয়েছেন।
মিশন: ইম্পসিবল—দ্য ফাইনাল রেকনিং: বক্স অফিসকে চাঙা করেছিল টম ক্রুজের মিশন ইম্পসিবল। ফ্র্যাঞ্চাইজির এটিই শেষ সিনেমা। ইথান হান্টকে আর দেখা যাবে না বড় পর্দায়। সে কারণেই হয়তো দর্শকের আগ্রহ আরো বেশি ছিল। সব মিলিয়ে এবারের সিনেমায় হলিউড ও দর্শককে আনন্দ দিয়েছেন টম ক্রুজ। সিনেমাটিতে তার স্টান্ট নিয়ে অনেক আগে থেকেই কথা হচ্ছিল। সেই দুর্দান্ত সব স্টান্ট দেখতে থিয়েটারে গিয়েছিলেন দর্শক। সেই সঙ্গে টম ক্রুজের অসাধারণ পারফরম্যান্স তো আছেই। সব মিলিয়ে মিশন: ইম্পসিবলে ইথান হান্টের শেষ মিশনটি দর্শক গ্রহণ করেছে। বক্স অফিস, দর্শক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে এটি বছরের অন্যতম সেরা সিনেমা।

মাই ডেড ফ্রেন্ড জোয়ি: যুক্তরাষ্ট্র যখন আবার আরেকটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধে জড়াচ্ছে সে সময় এল এ সিনেমা। যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি ভেটেরান কাইলে হওসনানের হাত ধরে এসেছে সিনেমাটি। এখানে দেখানো হয়েছে যুদ্ধের জন্য যারা জীবন ও জীবনের অনেক কিছু ছাড় দেয়, তাদের রাষ্ট্র যথেষ্ট সাহায্য করে না।
আ নরমাল ফ্যামিলি: প্যারাসাইটের অস্কার জয়ের পর মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমার প্রতি হলিউড ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সিনেমার দর্শকের মনোযোগ এসেছে তাদের প্রতি। তাই এ নরমাল ফ্যামিলি দক্ষিণ কোরিয়ার কাজ হলেও হলিউডে সিনেমাটি প্রভাব রেখেছে। সিনেমার পরিচালক হুর জিন হো। সিনেমাটি নিয়ে লিখতে গিয়ে এক সমালোচক বলেছেন প্রথম দৃশ্য থেকেই এ সিনেমা দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে আর শেষ করার পর এর রেশ থেকে যাবে অনেকটা সময়।
সিনার্স: এ বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল ও সমালোচক প্রশংসিত সিনেমা সিনার্স। রায়ান কুগলারের পরিচালনায় সিনেমাটিতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাইকেল জর্ডান। ১৯৩২ সালের সেটআপের এ সিনেমা প্রাথমিকভাবে হরর জনরায় পড়ে। কিন্তু গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিনেমাটি মূলত কৃষ্ণাঙ্গদের অবস্থা, তাদের অধিকার আদায়ের গল্প। সেই সঙ্গে ব্লুজ ঘরানার সংগীতের ইতিহাস ও তার চর্চাও দেখা যায় সিনেমায়। সব মিলিয়ে কুগলারের এ সিনেমা দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে। অনেকে একে মিলিয়েছেন ‘কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’-এর সঙ্গে।
স্লাই লাইভস: আহমির ‘কোয়েস্টলাভ’ থস্পসনের পরিচালনায় মূলত তথ্যচিত্র ঘরানার চলচ্চিত্র। সানড্যান্সে প্রিমিয়ার হওয়ার সময় থেকেই তথ্যচিত্রটি নিয়ে কথা হচ্ছিল। এরপর স্লাই স্টোনের জীবন নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রটি প্রশংসিত হয়েছে দর্শক ও সমালোচক মহলে। সিনেমার গল্পে শুধু স্লাই স্টোনই নয়, তার ব্যান্ড স্লাই অ্যান্ড দ্য ফ্যামিলি স্টোনের জানা-অজানা নানা বিষয় উঠে এসেছে। ষাটের দশক থেকে আশির দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত জনপ্রিয় এ ব্যান্ডের গল্পের পাশাপাশি আছে ওই সময়ের সংগীত ও অন্যান্য সামাজিক বিষয়।
সরি, বেবি: ইন্ডি সিনেমা নিয়ে কথা বরাবরই কম হয়। সেজন্যই সম্ভবত আলোচনায় নেই সিনেমাটি। এর আগে স্প্রিং ব্রেকার্স, হেরেডেটারি নিয়ে কিছু কথা হয়েছিল। সরি, বেবি নিয়ে কথা না হওয়ার কারণ হয়তো এতে কোনো বড় টুইস্ট নেই। সিনেমায় এভা ভিক্টর অভিনয় করেছেন। চিত্রনাট্য ও পরিচালনাও তার। এছাড়া আছেন লুকাস হেজেস, নাওমি অ্যাকি।
টোয়েন্টি এইট ইয়ার্স লেটার: ড্যানি বয়েলের পোস্ট প্যান্ডেমিক হরর সিনেমা। এছাড়া এটি তার ২৮ সিরিজের সিনেমা। এর আগে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘টোয়েন্টি এইট ডেজ লেটার’, ‘টোয়েন্টি উইকস লেটার’। এবারের ট্রেলার মুক্তি থেকেই সিনেমাটি আলোচনায় ছিল। ২০ জুন মুক্তি পাওয়ার পর সিনেমাটি নিয়ে দর্শক ও সমালোচক ইতিবাচক কথাই বলেছেন। সময় আরো গড়ালে এটিও দর্শক বহু দিন পর্যন্ত মনে রাখবেন, সে ধারার সিনেমার তালিকায় যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।’










