‘ক্যারিয়ারস’
ছবিটি নির্মিত হয়েছিল ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া চারজনের একটি দলকে ঘিরে। নৈতিক ও মানবিক দ্বন্দ্বের এ গল্প যেন সমকালীন সামাজিক বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। এ ছবি বিজ্ঞানের চেয়ে বেশি কিছু। এটি দর্শন ও ভবিতব্যের ছবি। ২০০৯ সালে নির্মিত ছবিটি হলিউডের এখনকার পরিচিত মুখ ক্রিস পাইনের ক্যারিয়ারে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
একটি সংক্রামক ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, এতে দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়। দুই ভাই, ব্রায়ান ও ড্যানি, ব্রায়ানের বান্ধবী ববি এবং ড্যানির বন্ধু কেটসহ
দক্ষিণ-পশ্চিম আমেরিকার টার্টল বিচে যায়। নির্জন সৈকতে, সেখানকার মোটেলে। তাদের বিশ্বাস, ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি মারা না
যাওয়া পর্যন্ত তারা এখানে থাকতে পারবে। এবং শেষ পর্যন্ত তারা একটি নতুন জীবন শুরু করতে পারবে। নিজেদের বাঁচাতে তারা ব্রায়ানের তৈরি কয়েকটি নিয়ম অনুসরণ করে চলতে শুরু করে।
সৈকতে যাওয়ার পথে এ দলটি মুখোমুখি হয়েছিল এক অচেনা ব্যক্তি ফ্রাঙ্ক হোলওয়ে এবং তার মেয়ে জোডির সঙ্গে। যে কিনা সেই অজানা ভাইরাসে সংক্রমিত ছিল। বাবা-মেয়ের গাড়ির জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়েছিল। ফ্রাঙ্ক একসময় ব্রায়ান ও তার বন্ধুদের ওপর আক্রমণ চালায়। তখন চার বন্ধু ফ্রাঙ্কের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের গাড়িটি ভেঙে যায়। কাজেই একপর্যায়ে তারা ফ্রাঙ্ক এবং জোডিকে সহায়তা করতে বাধ্য হয়, যাতে এই চারজন ফ্রাঙ্কের গাড়িটি ব্যবহার করতে পারে। ফ্রাঙ্কের জেদের কারণেই
তারা কাছের একটি স্কুলে যায়। যেখানে মহামারীটির জন্য একটি সিরাম (রক্তরস) তৈরির গুজব রয়েছে।
সেখানে পৌঁছে ফ্রাঙ্ক, ব্রায়ান, ড্যানি ও কেট আবিষ্কার করল যে সিরাম কাজ করে না। এদিকে, ববি ঘটনাক্রমে জোডি দ্বারা সংক্রমিত হয়ে পড়ে। কী করবে বুঝতে না পেরে সে অন্যদের থেকে নিজের সংক্রমিত হওয়ার কথাটি গোপন করে। এরপর, ফ্রাঙ্ক জোডিকে একটি রেস্টরুমে আনতে বাধ্য হয়। আর এ সুযোগে ব্রায়ান ও তার বন্ধুরা ফ্রাঙ্কের গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
দলটি একটি হোটেলে থামে। যে হোটেলটি অজানা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু ব্যক্তি তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিল। বাইরে থেকে বেঁচে থাকা লোকেরা ফিরে এলে তারা ব্রায়ানদের আক্রমণ করে এবং মেয়েদের এখানে রেখে চলে যাওয়ার কথা বলে। ঘটনার এক পর্যায়ে ববি ও কেটকে পরীক্ষা করানো হয়। তখন বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা আবিষ্কার করে যে ববি ভাইরাসে সংক্রমিত। বিষয়টি তখন সবার কাছে প্রকাশ পায়। ব্রায়ান ববিকে তাকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে।
এভাবে ব্রায়ানের ভাই ড্যানি একসময় বুঝতে পারে যে ব্রায়ানও ভাইরাসে সংক্রমিত। সে রাতেই ড্যানি ব্রায়ানকে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্রায়ান গাড়ির চাবি নিয়ে যায় এবং ড্যানিকে চাবি দিতে অস্বীকার করে। তাকে মেরে ফেলার জন্য ড্যানিকে অনুরোধ করে। বিকল্প কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে
ড্যানি ব্রায়ানকে গুলি করে। শেষ পর্যন্ত ড্যানি ও কেট বেঁচে যায়।
হলিউডের এ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ২০০৯ সালের ৪ নভেম্বর। ছবিতে ক্রিস পাইনসহ আরো অভিনয় করেছিলেন টেলর পিকি, পাইপার পেরোবো এবং এমিলি। ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য রচনা ও নির্মাণ করেন অ্যালেক্স ও দাভিদ পাস্তর। হরর, থ্রিলার, অ্যাকশন ড্রামা, কল্পবিজ্ঞান, অ্যাডভেঞ্চারমূলক গল্পের ছবিটি বক্স অফিসে ৫.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।










