প্রায় দুই বছর ধরে সার্টিফিকেশন বোর্ডে আটকে থাকার পর আলোর মুখ দেখছে ‘অন্যদিন’। জুলাইয়ে সি‌নেমাটি হ‌লে মুক্তি পা‌বে ব‌লে জানান প্রযোজক সারা আফরীন। ত‌বে মু‌ক্তির দিনক্ষণ এখনো জানানো হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সের সীমান্ত সম্ভার শাখায় সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনী ছিল। আমন্ত্রিত দর্শক সিনেমাটি উপভোগ করেছেন। এটি পরিচালনা করেছেন কামার আহমাদ সাইমন।

সিনেমাটি বিশ্বের বিভিন্ন উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। জুলাইয়ে সর্বসাধারণের জন্য মুক্তির আগে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন সিনেমার প্রযোজক ও নির্মাতা।

বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার।

গত রেজিমের এক দশকে ভেসে বেড়ানো একটা দেশের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘অন্যদিন’। প্রদর্শনী শেষে সবাই অন্যদিনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এতদিন সিনেমাটি কেন আটকে ছিল সে প্রশ্নটি যেন ঘুরেফিরে বারবার আসতে থাকে।

অন্যদিন সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীতে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরো ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, সিনেমার পরিচালক–প্রযোজক কামার আহমাদ সাইমন ও সারা আফরীন, অ্যাক্টিভিস্ট মীর হুযাইফা আল-মামদূহসহ অনেকে।

প্রযোজক সারা আফরীন জানান, অন্যদিন নিয়ে কান, লোকার্নো, ক্যামডেনের মতো প্রথম সারির অনেক উৎসব-প্রাপ্তি থাকলেও দেশে সিনেমাটি দেখানোর ব্যাপারে এতদিন নিষেধাজ্ঞা ছিল।

উল্লেখ্য, অন্যদিন ছিল ২০১৭ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশন সিনফন্দেশিওনের সিনেমা। এ সিনেমার জন্যই ২০১৬ সালে লোকার্নোর পিয়াতজা গ্রান্দায় বাংলাদেশের প্রথম কোনো নির্মাতা হিসেবে ‘ফিচারড ডিরেক্টর’-এর সম্মাননা পেয়েছিলেন কামার আহমাদ সাইমন। সেই সঙ্গে ফ্রান্স থেকে আর্তে ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পেয়েছে সিনেমাটি। এছাড়া ২০১৪-তে সানড্যান্স থেকে গ্রান্ট অ্যাওয়ার্ড জয় করে অন্যদিন। ২০২১ সালে বিশ্বের প্রথম সারির উৎসবগুলোর অন্যতম প্রধান ইডফার মূল প্রতিযোগিতায় পৃথিবীর সুন্দরতম আমস্টারডামের তুসান্সকি থিয়েটারে অভিষেক হয়েছিল অন্যদিনের। এছাড়া বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছে সিনেমাটি।

দুনিয়ার নানা দেশের মর্যাদাপূর্ণ বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হলেও নিজ দেশেই এখনো দেখানো যায়নি অন্যদিন। কারণ সিনেমাটির বক্তব্য বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ, রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় পছন্দ হয়নি তখনকার সেন্সর বোর্ডের। তাই এতদিন আটকে ছিল সিনেমাটি।

প্রদর্শনী শেষে সিনেমাটির নির্মাতা অন্যদিন মুক্তির ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘‌একটা সিনেমাকে গায়েব করা মানে একজন নির্মাতাকে গুম করে দেয়া। চব্বিশের জুলাইয়ের আগে অন্যদিন দেখানোয় নিষেধাজ্ঞা ছিল। তাই ঠিক করেছিলাম এরপর আর কোনো সিনেমা বানাব না। কিন্তু জুলাই এসে সব ওলট-পালট করে দিল। কাক ও কবিরা কিন্তু ভূমিকম্প আগে টের পায়, যেকোনো শিল্পমাধ্যমের ক্ষেত্রেই কথাটা খাটে, যদি না শিল্পীরা তাদের আত্মসত্তা বিক্রি করে না দেন। বিগত রেজিমের জন্য সিনেমাটি প্রফেটিক হয়ে যাওয়ায় তারা আটকে দিয়েছিল। অথচ এখন আবার জুলাই এল বলেই অন্যদিন দেখানো যাচ্ছে। সেজন্য আমরা ঠিক করেছি জুলাইকে উৎসর্গ করে এ জুলাইতেই মুক্তি দেব অন্যদিন।