সিলেটে শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে বড় হারের মুখে বাংলাদেশ। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিসের জোড়া সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১৮ রান তুলে বাংলাদেশকে ৫১১ রানের বিশাল টার্গেট ছুড়ে দেয় শ্রীলংকা। কঠিন এ টার্গেট তাড়া করতে নেমে গতকাল তৃতীয় দিন শেষে ১৩ ওভারের খেলায় আত্মাহুতির মিছিলে যোগ দেন বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটাররা। ৩৭ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মুমিনুল হক (৭) ও তাইজুল ইসলাম (৬) ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দিন পার করেন। দিন শেষে স্কোর ৪৭/৫। টার্গেট থেকে এখনো ৪৬৪ রান দূরে স্বাগতিকরা। 

এখনো পুরো দুদিনের খেলা বাকি। এ সময়ে বাংলাদেশের ৫ উইকেট তুলে নিতে পারলেই রাজসিক এক জয় পাবে লংকানরা। আজ বিকালে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। যদিও লংকানরা জয়ের এতটাই কাছে যে সিলেটে মৌসুমি বৃষ্টি হয়তো তাদের জয়ে বাধা হয়ে উঠবে না। 

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় লজ্জার সামনে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। রানের হিসাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হারটি শ্রীলংকার বিপক্ষে। ২০০৯ সালে চট্টগ্রামে ৬২৪ রান তাড়া করতে নেমে ৪৬৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের কাছে ৩৩৫ রানের হারটি রয়েছে তালিকার দুইয়ে।   

প্রথম ইনিংসের মতো গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন লংকানরা পেসাররা। এর মূল কারিগর বামহাতি পেসার বিশ্ব ফার্নান্দো। মাহমুদুল হাসান জয়, শাহাদাত হোসেন ও লিটন দাসকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এছাড়া শান্ত উইকেট বিলিয়ে দেন কাসুন রাজিথাকে, আর জাকির হাসান শিকার হন লাহিরু কুমারার। অধিনায়ক শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার লিটন দাসের আউট ছিল বড়ই দৃষ্টিকটু। তারা যে বলে শট খেলেছেন, তা ওই সময়ের বাস্তবতায় কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। 

দ্বিতীয় দিন শেষ ১১৩ রানে শ্রীলংকার ৫ উইকেট তুলে নিয়ে আশা জাগান বাংলাদেশের বোলাররা। যদিও প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও জোড়া সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান ধনাঞ্জয়া-কামিন্দু জুটি। গতকাল দুজন গড়েন ১৭৩ রানের আরেকটি অবিশ্বাস্য জুটি। ধনাঞ্জয়া ১০৮ রান করে আউট হওয়ার পর সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কামিন্দুও। পরে টেল-এন্ড নিয়ে লড়ে যান তিনি বীরবিক্রমে। ২৩৭ বলে ১৬৪ রানের মারমুখী ইনিংস খেলে তাইজুল ইসলামের বলে আউট হয়েছেন মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলা এ বামহাতি ব্যাটার।

৮ নম্বরে নেমে এটা চতুর্থ সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর। কামিন্দুর চেয়ে বেশি, এমনকি ডাবল সেঞ্চুরি আছে তিনজনের। পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম ১৯৯৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৫৭ রান, পাকিস্তানের ইমতিয়াজ আহমেদ ১৯৫৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ নম্বরে নেমে ২০২ রান করেছিলেন। এ তিনটি গ্রেট ইনিংসের পরই নিজের নামটি লিখিয়ে নিলেন কামিন্দু মেন্ডিস। 

প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি করেছেন ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দু। ধনাঞ্জয়া এক দশকের মধ্যে প্রথম লংকান ব্যাটার হিসেবে টেস্টের উভয় ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে এ কীর্তি ছিল ব্যাটিং গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারার। ধনাঞ্জয়া আউট হওয়ার পর সেঞ্চুরি করেন কামিন্দুও। টেস্ট ইতিহাসে এ নিয়ে তৃতীয়বার একই টেস্টে দুটি ১৫০ রানের জুটির রেকর্ডও হলো। এ দুজন ছাড়াও এমন কীর্তি আছে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও জো বার্নসের (২০১৫) এবং ইংল্যান্ডের এডি পেইন্টার ও পল গিবসের (১৯৬৮)। 

গতকাল সকালে তৃতীয় ওভারে আগের দিনের ‘নাইটওয়াচম্যান’ বিশ্ব ফার্নান্দোকে সাজঘরে ফেরান পেসার খালেদ আহমেদ। স্বাগতিকরা দ্রুতই লংকানদের অলআউট করার স্বপ্ন দেখছিল। যদিও এরপর ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দু ব্যাটে শাসন করতে থাকেন শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানাদের। তারা সপ্তম উইকেটে মধ্যাহ্নভোজের আগেই ২৪.১ ওভারে বোর্ডে ১০৭ রান যোগ করেন। পরে ১৭৩ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ধনাঞ্জয়া ১৭৯ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ১০৮ রান করেন। 

অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করা কামিন্দু অষ্টম উইকেটে প্রবথ জয়সুরিয়াকে নিয়ে ৬৭ ও দশম উইকেটে কাসুন রাজিথাকে নিয়ে ৫২ রান যোগ করে টাইগারদের সামনে হিমালয়সম টার্গেট ছুড়ে দেন। এ পথে তিনি বিস্ফোরক ব্যাটিং করেন। ২৩৭ বলের মোকাবেলায় ১৬টি চার ও ৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এ ব্যাটার।

স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ৪ উইকেট নিয়ে লংকানদের খানিকটা চাপে রাখেন। যদিও অভিষিক্ত নাহিদ রানা বেশ ব্যয়বহুল বোলিং করেন। তিনি ২০ ওভারে ১২৮ রানের খরচায় নেন ২টি উইকেট।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা: ২৮০ ও ৪১৮ (কামিন্দু ১৬৪, ধনাঞ্জয়া ১০৮; মিরাজ ৪/৭৪, তাইজুল ২/৭৫, নাহিদ ২/১২৮)। বাংলাদেশ: ১৮৮ ও ৪৭/৫ (মুমিনুল ৭*, তাইজুল ৬*; বিশ্ব ফার্নান্দো ৩/১৩)। —তৃতীয় দিন শেষে।