বিশ্বখ্যাত মানবতাবাদী স্থপতি এবং পাকিস্তানের প্রথম নারী স্থপতি ইয়াসমিন লারি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সম্প্রতি মেরুল বাড্ডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি স্থাপত্যকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অসমতা দূর ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে শক্তিশালী করার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেন।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার বিভাগ নিয়মিত ‘অঙ্গন লেকচার সিরিজ’ আয়োজন করে, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্থাপত্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধারণা নিতে পারে। এই সিরিজের ১৫০তম পর্বে ইয়াসমিন লারি বক্তব্য দেন। তার বক্তৃতার শিরোনাম ছিল, ‘পৃথিবী বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও: স্থাপত্যকে কার্বনমুক্ত, উপনিবেশমুক্ত এবং গণতান্ত্রিক করো’।

বক্তৃতায় ইয়াসমিন লারি বলেন, স্থাপত্য কেবল ভবন তৈরির বিষয় নয়। এটি হচ্ছে টেকসই সমাধান তৈরি, সমাজকে ক্ষমতায়িত করা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার একটি উপায়। তিনি স্থাপত্যকে কার্বনমুক্ত, উপনিবেশমুক্ত ও গণতান্ত্রিক করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, এমন ভবিষ্যৎ গড়তে হবে যেখানে টেকসইতা ও মানবতা পাশাপাশি থাকবে।

বক্তব্য শেষে আর্কিটেকচার বিভাগের চেয়ারপারসন প্রফেসর জয়নাব ফারুকী আলীর সঞ্চালনায় একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত স্থপতিরা অংশ নেন। আলোচনায় ইয়াসমিন লারির আধুনিক ব্রুটালিস্ট ভবন, মিররড অফিস টাওয়ার, ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্প এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য তার মানবিক স্থাপত্য চর্চার বিষয়ে আলোচনা হয়।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ইয়াসমিন লারির তত্ত্বাবধানে সপ্তাহব্যাপী একটি শীতকালীন কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ‘জিরো কার্বন’ বাঁশের একটি প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড কাঠামো নির্মাণ করেন, যা দুর্যোগকালীন পুনর্বাসনের জন্য উপযোগী। কর্মশালায় একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি সেশনও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইয়াসমিন লারি প্রধান আলোচক ছিলেন।

ইয়াসমিন লারি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দুর্যোগ সহনশীল ও কার্বনমুক্ত বাসস্থান তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার ‘বেয়ারফুট সোশ্যাল আর্কিটেকচার’ দর্শন টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং কার্বন নিরপেক্ষ উপাদান ব্যবহার করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে।

স্থাপত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইয়াসমিন লারি ২০২৩ সালে রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস থেকে রয়্যাল গোল্ড মেডেল এবং ২০২০ সালে জেন ড্রু পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা লাভ করেছেন।