দেশের ট্যানারি শিল্পে বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য তৈরি হলেও এর বড় অংশই এখনো যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। গবেষক ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বর্জ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে জেলাটিন, কোলাজেন, ট্যালোসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। এতে একদিকে দেশে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের বিকল্প তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে ট্যানারি বর্জ্যভিত্তিক নতুন শিল্প গড়ে তুলে রপ্তানি বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত এক নীতি সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিল্ড-এর চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে চামড়া শিল্পজাত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা উপজাত প্রকল্পে পুঁজি বিনিয়োগ করতে চাইলেও কাঁচামালের তীব্র ঘাটতির মুখে পড়ছেন। নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যকার ব্যবধান দূর করতে সরকারি মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও টেকসই সহযোগিতা গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিল্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, দেশে বছরে প্রায় ৮৪ হাজার মেট্রিক টন ট্যানারি কঠিন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে ক্রোমভিত্তিক ও ক্রোমমুক্ত বর্জ্যের পাশাপাশি ফ্লেশিং, ট্রিমিংস, শেভিং ডাস্ট, স্লাজ ও অন্যান্য বর্জ্য রয়েছে। এসব বর্জ্যের বড় একটি অংশের এখনো কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে সম্ভাবনাময় কাঁচামাল যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের ওপরও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।
গবেষণায় দেখা গেছে, ট্যানারির কঠিন বর্জ্যের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে জেলাটিন, গ্লু, শু সোল, গ্লাভস, ব্যাগ, ওয়ালেট, পেভার ব্লক, কোলাজেন হাইড্রোসেল ও কোলাজেন পেপটাইডসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা সম্ভব। দেশে বিচ্ছিন্নভাবে এসব পণ্য উৎপাদন হলেও এর বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্মৃতি কর্মকার বলেন, চামড়া শিল্পজাত কঠিন বর্জ্যকে কেবল পরিবেশ বা নদীদূষণের সমস্যা হিসেবে না দেখে, সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং সবুজ উদ্যোক্তা তৈরীর একটি মূল্যবান অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখা উচিত।
সরকার রফতানি বহুমুখীকরণ, নীতি-সহজীকরণ, উন্নত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বাংলাদেশী পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, সম্পদ দক্ষতা, পণ্য বহুমুখীকরণ, কমপ্লায়েন্স এবং মূল্য সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এছাড়া, চামড়া শিল্পজাত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, বাজারের সুযোগ, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আরো গবেষণার ওপর জোর দেন এ সচিব।
পাশাপাশি, গবেষণার সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত নীতিগত পদক্ষেপ নিতে শিল্প মন্ত্রণালয় বিল্ড ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য প্রদান করেন ইউনডো’র কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, ও লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফএলইএ))-এর সভাপতি টিপু সুলতান, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন খানসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী ও গবেষকরা।










