ইরানের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাগেরি কানি পেয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব। হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আবদুল্লাহিয়ানের মৃত্যুর কারণে গতকাল দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের এ সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। খবর বিবিসি ও আইআরএনএ।

ইরানের সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দায়িত্বরত অবস্থায় কোনো প্রেসিডেন্টের মৃত্যু হলে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এ আইনবলে ৬৮ বছর বয়সী মোখবারকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি মোখবারকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বও দিয়েছেন। 

আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মারা গেলে ৫০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দিতে হয়। নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে তিন সদস্যের পরিষদ। সংবিধান অনুযায়ী মোখবার, পার্লামেন্টের স্পিকার ও বিচার বিভাগের প্রধান এ পরিষদের সদস্য হন। 

ইব্রাহিম রাইসির মতো মোখবারও ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। মোখবারের জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। ২০২১ সালে তিনি প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। গত অক্টোবরে ইরানের যেসব শীর্ষ কর্মকর্তা রাশিয়া সফর করেন, তাদের মধ্যে মোখবারও ছিলেন। সে সময় রুশ সেনাবাহিনীকে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও আরো বেশি ড্রোন সরবরাহের ব্যাপারে তারা সম্মত হন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিনিয়োগ ফান্ড ‘সেতাদ’-এর প্রধান হিসেবে টানা ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন মোখবার।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া আলী বাগেরি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। এর আগে ২০০৭-১৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারির দায়িত্বে। 

ইরানের রাষ্ট্রকাঠামোয় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী। ক্ষমতাকাঠামোয় এর পরই আছেন প্রেসিডেন্ট।