বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য যশোর পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে স্থাপন করা হয়েছিল সৌরবাতি। প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ করে স্থাপন করা বাতিগুলো সাড়ে ছয় বছরেই অকেজো হয়ে পড়েছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের অভাবে এসব বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। এতে অন্ধকারে হারিয়ে গেছে ‘আলোর প্রকল্প’। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, সৌরবাতি সরকারের একটি লস প্রজেক্ট ছিল। তবে কিছু কিছু স্থানে সৌরবাতি বদলে এলইডি লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-২০ সাল পর্যন্ত ২৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে সৌরবাতি স্থাপন করে পৌরসভা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে পৌর এলাকায় সৌরবাতি লাগানোর কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৪টি বাতি লাগানো হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি সৌরবাতি লাগানো হয় এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে তৃতীয় পর্যায়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি সৌরবাতি লাগানো হয়। বাতিগুলো সৃজনী বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও স্থাপন করে। ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাতিগুলো স্থাপন করা হয়। এরপর তিন বছর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মেরামতের দায়িত্ব ছিল। তারপর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল পৌর কর্তৃপক্ষের।
শহরের আরএনরোড নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা সজিব আহমেদ বলেন, ‘সৌরবাতিগুলো স্থাপনের পাঁচ থেকে ছয় মাস পর থেকেই নষ্ট হতে থাকে। সৌরবাতি ঠিকমতো জ্বলছে কিনা, মাঝে মাঝে তা পরীক্ষা করার কথা থাকলেও স্থাপনের পর কাউকে বাতিগুলো মেরামত করতে দেখিনি। আমার বাড়ির গেটের সামনেই একটি সৌরবাতি প্রায় দুই-তিন বছর ধরে অকেজো হয়ে আছে। পৌরসভা থেকে কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। ওইসব স্থানে আলো না থাকায় বেড়েছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও।’
নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শেখ মাসুদুর রহমান মিঠু বলেন, ‘প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ করে পৌরবাসীর সুবিধার জন্য সৌরবাতিগুলো বসানো হয়েছিল। অথচ বাতিগুলো কয়েক বছরের মধ্যেই পুরো অকেজো হয়ে গেল। এখন বাতিগুলো দেখভাল করারও কেউ নেই। নতুন প্রকল্প হলে যতটা আগ্রহ দেখায় পৌর কর্তৃপক্ষ; নষ্ট হলে তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। প্রকল্পটি যেহেতু জনগণের কোনো কাজে আসছে না তাই আমরা বলতে পারি, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ছিল লুটপাট করা। তাই করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে যশোর পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সৌরবাতি স্থাপনের কাজ আগের মেয়রের আমলে হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছি। এখনো কোনো সাড়া মেলেনি। আমরা চেষ্টা করছি অন্ধকার দূর করতে ‘স্ট্রিট এলিডি লাইট’ স্থাপন করার জন্য।’










