গবেষণার এমন ফলাফল দেখতে চায় সরকার, যা সরাসরি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। গবেষণার সুফল যেন মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং তা দৃশ্যমান হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
আজ বুধবার ঢাকায় বিসিএসআরআই ক্যাম্পাসে অবস্থিত বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টসের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বিশেষ গবেষণা অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প: ফলাফল ও প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব এসব কথা বলেন।
মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় চায় অনুদানপ্রাপ্ত গবেষকরা এমন গবেষণা পরিচালনা করুন, যার ফল সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানুষ যেন বুঝতে পারে গবেষণার বাস্তব উপকারিতা রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে ১৮ কোটি মানুষের একটি বড় বাজার রয়েছে। তাই গবেষণারও যথেষ্ট সুযোগ আছে। তবে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করতে হবে দেশের সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায়। একই সঙ্গে গবেষণাকে খাতভিত্তিক ও প্রয়োজনভিত্তিক হতে হবে।
গবেষকদের উদ্দেশে সচিব বলেন, দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে কোন গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন, তা আগে বুঝতে হবে। কোনো গবেষণার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে কি না, সেটিও গবেষণা শুরুর আগেই বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গবেষণা থেকে অর্জিত জ্ঞানকে পরবর্তী ধাপে বাজারে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। গবেষণার সঙ্গে বাজারের একটি কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলাও জরুরি।
বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টসের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় জীবপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. সগির আহমেদ, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ।
সেমিনারে বিশেষ গবেষণা অনুদানপ্রাপ্ত গবেষকদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাসিথ এবং হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষক এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









