স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসক পদ থেকে পদত্যাগ করলেও নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্যতার সুপারিশ বাতিল, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সম্মেলন কক্ষে ইসির সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির কাছে নয়টি দাবি জানিয়েছে জামায়াত। এর কয়েকটি দাবি আগেও কমিশনকে জানানো হয়েছিল। বৈঠকে সেসব দাবির অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য করার সুপারিশের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাদের অনেকে প্রার্থী হয়েছেন। অথচ স্থানীয় নির্বাচনে তাদের অযোগ্য করার সুপারিশ করা হয়েছে। এটি সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতা ও বৈষম্যহীনতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন তিনি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়ার দাবিও জানিয়েছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলে ওই দলের নেতা বা পদধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নিযুক্ত প্রশাসকদের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব প্রশাসকের অনেকে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে জামায়াত।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসকেরা পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। পদত্যাগ করলেও অন্তত ওই নির্বাচনে তাদের অযোগ্য রাখতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের অপসারণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, সামসুল আলম একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকা ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নিয়ে জামায়াতের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি সরকারকে জানানোর জন্য ইসিকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। এ বিষয়ে নতুন আচরণবিধিতে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখার কথা ইসি জানিয়েছে বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।

বৈঠকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ছাড়াও সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ, নাজিবুর রহমান মোমেন, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন ও আব্দুর রব এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত উপস্থিত ছিলেন। ইসির পক্ষে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকে অংশ নেন।