রাজধানীর গুলশানের বারিধারা এলাকায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাজা পরোয়ানা মুলে আজ বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় তার আইনজীবী আপিল শর্তে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বরের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সেসময় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দাউদ হোসেন জানান, গুলশান থানায় করা একটি প্রতারণা মামলায় বিদিশার ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

ঢাকার পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুলশান থানায় এ মামলা করেছিলেন। এ মামলায় বিদিশা সিদ্দিক জামিন নিয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর তার জামিন বাতিল হয়।

সবশেষ গত ২০ মে এ মামলায় বিদিশারে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন।

বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়ার কথাও ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেন।

পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭৫ লাখ টাকার একটি চেক দেয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে বিদিশা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ২২ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০০৯ সালের ৯ আগস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কনিকা বিশ্বাস। মামলার বিচার চলাকালে আদালতে সাতজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।