পঞ্চগড়ে গত চারদিন ধরে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে জমে যাচ্ছে চারপাশ।

প্রতিদিন রাত থেকে শুরু হওয়া ঘন কুয়াশা টিপটিপ করে দিনজুড়ে পড়তে থাকে। সকালে কুয়াশায় ঢেকে যায় চারদিক। গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা পাওয়া যায়নি জেলাটিতে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত তিন দিনে বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৮ ডিগ্রি, মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি এবং সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

COLD PIC 2

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত মানুষ

দিনের বেলায় তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। আর রাতের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাচ্ছে।

তীব্র শীতের কারণে হাট-বাজারে জনশূন্যতা দেখা যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। তবে নিম্ন আয়ের মানুষ যেমন— ইজিবাইক চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা শীত উপেক্ষা করেই কাজে নামছেন।

পঞ্চগড়ের হাড়িভাষা এলাকার ইজিবাইক চালক জসিম উদ্দিন বলেন, তিন দিন ধরে সূর্য দেখা যায় না। হাটে-বাজারে লোকজন কম। তাই আয়ও অনেক কমে গেছে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুব উল আলম জানান, শীতের কারণে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবেত আলী জানান, শীত মোকাবেলায় দরিদ্র মানুষের জন্য এরই মধ্যে দুই হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া আরো পাঁচটি উপজেলায় শীতবস্ত্র বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।