বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বাড়লেও সাধারণ মানুষের উপরে তার প্রভাব খুব হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডস্থ ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের ওপর আরোপিত করের বোঝা কেমন প্রভাব ফেলতে পারে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, আমরা বলছি না যে প্রভাব পড়বে না। তবে এটা খুবই সামান্য হবে। আমরা মনে করি না যে খুব ব্যাপক প্রভাব পড়বে।
বিভিন্ন সংগঠন ভ্যাট ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে, বিকল্প উপায় বের করার তাগিদ দিচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তাদের কথাগুলো শুনেছিলাম এটুকু বলতে পারি।
প্রেস সচিব বলেন, জনগণের টাকা কীভাবে লুটপাট আর অপচয় হয়েছে তার কিছু নমুনা আপনারা এখন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে দেখছেন। সেজন্য আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশের ট্যাক্স জিডিপি রেশিও এমন একটা হেলদি জায়গায় যাক, যাতে ইকোনমি গ্রোথ হয়। রেশিও কমে যাওয়া মানে হচ্ছে এমনও হতে পারে যে আপনি ঋণ শোধ করতে পারবেন না বা বাংলাদেশের উন্নয়নে যে অর্থ লাগে সেটি পাওয়া যাচ্ছে না। সেই জায়গা থেকে বিচার করে এটা করা হয়েছে। আমরা আশা করছি সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নে এই টাকা ব্যয় হবে।
আইএমএফ’র শর্ত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইএমএফের ঋণ পাওয়া মুখ্য বিষয় না। আইএমএফের একটা বড় বিষয় হচ্ছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক করার সুবিধা হচ্ছে ম্যাক্রো ইকোনমি স্থিতিশীলতার সেরা পরামর্শ দেয়। আইএমএফ যেখানে ঋণ দেয়, তার মানে হচ্ছে তাকে সামনে রেখে অন্যরা আসে। অন্য বলতে বিশ্বব্যাংক, আইডিবি, জাপান, এরা এসে দেখে যে আইএমএফের সার্টিফিকেট আছে, ম্যাক্রো ইকোনমির স্থিতিশীলতার দিকে যাওয়া হচ্ছে, তখন সবাই আসে। এটা বাংলাদেশের বাইরে থেকে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য অনেক বড় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের রেভিনিউ যত ভালো হবে মার্কেট এক্সচেঞ্জ রেট তত ভালো হবে। ইকোনমি স্থিতিশীল থাকা মনে জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল থাকা। আপনি হয়তো এক আর এক মিলিয়ে দুই দেখছেন, কিন্তু যারা প্ল্যান করেছেন তারা বোদ্ধা ইকোনমিস্ট। তারা জানেন কী করছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাচার করা অর্থ কীভাবে বাংলাদেশে আনা যায় সেটা আমরা দেখছি। এটা আমাদের টপ প্রায়োরিটি। চুরি আনলিমিটেড হয়েছে। এই চুরির টাকা কোথায় কোথায় রয়েছে সেটা চিহ্নিত করা। আপনি আজকেও দেখেছেন যে, ৬০ কাঠার জমি নিয়েছে সেটার ওপরে একটা মামলা হয়েছে। আমরা দেখছি কোথায় কোথায় কীভাবে টাকাগুলো গেছে। কোন অ্যাকাউন্টে গেছে। সেই জিনিসটার জন্য যা যা করা লাগে, আমরা সেই কাজটা করছি। যে দেশে টাকাটা চলে গেছে, সেই দেশের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি।
শফিকুল আলম বলেন, আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি খুব দরকার। যদি না থাকে, আপনি নিজেই দেখবেন যে টাকার মান কমে যাচ্ছে। ১২৫ টাকায় এক ডলার কিনছেন, একটা সময় আসবে যে ১৯০ টাকা দিয়ে ডলার কিনতে হবে। আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি বাড়ানোর জন্য ট্যাক্স অনুপাত বাড়াতে হবে। পাঁচ মাসে রেভিনিউ শর্ট হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। খরচটা তো মেটাতে হবে।










