আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ ও মূল্য বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, তামাকপণ্যের সহজ প্রাপ্যতা কমাতে ও তরুণ সমাজকে তামাকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে হলে সিগারেটসহ সব তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো জরুরি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ডর্প টোব্যাকো-ফ্রি ইয়ুথের সদস্যসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী এ দাবি জানান।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশে তামাকজাত পণ্য সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের ভাষ্য, দেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশ। মৃত্যুর এ হার কমাতে তামাকপণ্যকে তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিতে হবে।
বিইউপির শিক্ষার্থী সাইফুল বলেন, দেশে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আসে মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, জর্দা, গুল ও সাদাপাতার মতো ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের ক্ষতি যুক্ত করলে এ আর্থিক ক্ষতি আরো বাড়বে। তাই শুধু রাজস্ব আয়ের বিষয় হিসেবে না দেখে তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে দাম বাড়ানো প্রয়োজন।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় তামাকপণ্যের দাম এখনো কম। মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যের দাম না বাড়ায় এসব পণ্য তরুণদের নাগালের মধ্যেই থেকে যাচ্ছে। এতে তামাক ব্যবহার কমছে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
ডর্পের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রতিনিধি জেবা আফরোজা বলেন, সিগারেটের চার স্তরের মূল্য কাঠামোর কারণে সিগারেট এখনো সস্তা ও সহজলভ্য। এতে তরুণরা সহজেই তামাক ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
জেবা আফরোজা প্রস্তাব দেন, আগামী বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
এছাড়া সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের আহ্বান জানান বক্তারা। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ তামাকপণ্যের ব্যবহার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।










