জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিবেদিতভাবে ভূমিকা পালনে উপদেষ্টার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে, চট্টগ্রাম জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সন্দ্বীপের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে সার্বিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়। কমিটির প্রতিবেদনে নিরাপদ ও সহজ নৌযোগাযোগ স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দ্বীপাঞ্চলের লাখো মানুষের নিত্যদুর্ভোগ কমে আসবে।
সন্দ্বীপে প্রায় ৪ লাখ মানুষ বসবাস করে। জীবন-জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসার মতো জরুরি কাজে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে এ জনপদের বাসিন্দাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে বন্দরনগরীতে এবং চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। চট্টগ্রাম সমুদ্র উপকূল ও সন্দ্বীপের মাঝখানে রয়েছে উত্তাল নৌ-চ্যানেল, এই নৌপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ কি.মি.। এ পথ পাড়ি দিতে শিশু, নারী ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীরা নৌযাত্রায় প্রতিনিয়ত অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন।
সন্দ্বীপের প্রান্তেও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণ দীর্ঘদিন যাবত সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধান চেয়ে আসছেন। এদিকে ঘাটের কাছাকাছি নাব্যতা কম। এরজন্য বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাককে গুপ্তছড়া ঘাট থেকে প্রায় এক থেকে ২ কি.মি. দূরে নোঙর করতে হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের লক্ষ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সরাসরি ফেরি চলাচলে গুরুত্ব দিয়ে তা অবিলম্বে চালুর লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। উভয় প্রান্তে সরু সংযোগ সড়ক, নাব্যতা সঙ্কট, অর্থনৈতিকভাবে প্রক্রিয়াটি লাভজনক হবে কিনা ইত্যাদি বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ফেরিঘাট স্থাপন, নৌপথ জরিপ ও নাব্যতা রক্ষায় বিআইডব্লিউটিএ এবং ফেরির সংস্থান করতে বিআইডব্লিউটিসি সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়।










