বর্তমানে দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল পরিসর শিশুদের জন্য অনলাইন যৌন নিপীড়ন ও ঝুঁকি তৈরি করছে। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু অনলাইনে যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং এবং ব্ল্যাকমেইল বা সেক্সটোরশনের শিকার হচ্ছে, অথচ তাদের সুরক্ষায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি। পাশাপাশি, দেশে প্রায় অর্ধেক নারী ১৮ বছর বয়সের আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও যৌন সহিংসতা বাড়াচ্ছে। বর্তমানে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশই স্বামী বা সঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে শিশুদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (এসআরএইচআর) এবং অনলাইন যৌন নিপীড়ন ও শোষণ (ওএসএইসি) প্রতিরোধে একটি সমন্বিত এবং শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় টেরে দেস হোমস-নেদারল্যান্ড, এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান পিএসটিসি ও আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং বণিক বার্তার উদ্যোগে ‘শোষণ থেকে সুরক্ষা: আইন ও নীতিমালার প্রয়োগের মাধ্যমে শিশুদের অনলাইন যৌন শোষণ ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরে আইনি কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সহকারী সম্পাদক ও বিশেষ প্রতিনিধি বদরুল আলম।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, দেশে বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে অপরাধীদের শাস্তির বিধান থাকলেও ভুক্তভোগী শিশুদের মানসিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় সেবা ও পুনর্বাসনের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এ পরিস্থিতি উত্তরণে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ইতিবাচক অভিভাবকত্ব নিশ্চিতকরণ এবং একটি শিশুবান্ধব ও জবাবদিহিতামূলক আইনি কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে টেরে ডেস হোমস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর (সুফাসেক প্রজেক্ট) নজরুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্য দেন। দুটি রিসার্চ বেসড পলিসি ব্রিফ করা হয়। ‘চাইল্ড অনলাইন সেফটি অ্যান্ড অনলাইন সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন অব চিলড্রেন (ওএসইসি)’ শীর্ষক পলিসি ব্রিফ করেন ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী এবং ‘এসআরএইচআর অফ চিলড্রেন অ্যান্ড এডোলেসেন্টস’ শীর্ষক পলিসি ব্রিফ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সানজিদা আক্তার। উপস্থাপিত পলিসি ব্রিফে কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (এসআরএইচআর) এবং অনলাইন যৌন নির্যাতন ও শোষন থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো সবিস্তারে তুলে ধরা হয়।
অনলাইন সুরক্ষার বিষয়ে এ কে এম মাসুদ আলী তার পলিসি ব্রিফে বলেন, দেশে শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও সে অনুযায়ী ডিজিটাল লিটারেসি ও আইনি সুরক্ষা বাড়েনি । ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ শিশু ও কিশোর তাদের জীবনে কোনো না কোনো সময় অনলাইন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে গ্রুমিং (৫৩ শতাংশ), সাইবার ফ্ল্যাশিং (৩৮ শতাংশ) এবং সেক্সটোরশন (১২ শতাংশ) অন্যতম। গ্রামীণ অঞ্চলেও এ ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বিস্তৃত হয়েছে; যেমন মোল্লারহাট উপজেলার এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে ৩০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী পর্নোগ্রাফিক টেক্সট বা অডিও এবং ২১ শতাংশ পর্নোগ্রাফিক ভিডিও পাচ্ছে ।
অন্যদিকে অধ্যাপক ড. সানজিদা আক্তার পলিসি ব্রিফে বলেন, ২০২৫ সালের ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে’ অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের হার প্রতি হাজারে ৯২ জন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাল্যবিবাহ বন্ধ করাকে প্রধান শর্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, কারণ বর্তমানে অর্ধেকের বেশি নারী ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিবাহিত।
বৈঠকে কিশোরীদের পাশাপাশি কিশোরদের প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অনেক শিক্ষক ব্যক্তিগত জড়তার কারণে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান এড়িয়ে চলেন, ফলে কিশোররা অনির্ভরযোগ্য উৎস এবং পর্নোগ্রাফির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর ফলে সম্মতি এবং লিঙ্গবিষয়ক ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে যা পরবর্তীতে সহিংসতাকে উৎসাহিত করে।
আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫’ অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত নয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে এর অসামঞ্জস্যতা রয়েছে । এছাড়াও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য তারা সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি যথাযথভাবে না মানায় তারা অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের প্রতি অনলাইন হয়রানির বিষয়ে উদাসীন থাকছে।
টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস-এর কান্ট্রি ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন, যেকোনো কর্মসূচিতে আমরা শিশুদের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। শিশুরা সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এটাই আমাদের চাওয়া। তাদের অনলাইন সুরক্ষা ও যৌন স্বাস্থ্যকে কিভাবে আরও উন্নত করা যায় সে আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের সম্পদ ও সামর্থ্য সীমিত হলেও আমরা চাই না এটি কেবল একদিনের কোনো আয়োজন হয়ে থাকুক। আমাদের কিছু ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প গত তিন বছর ধরে বিশ্বব্যাপী পরিচালিত হচ্ছে। আজকের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সব সুপারিশ নথিবদ্ধ করে একটি সংশোধিত সংস্করণ তৈরি করা হবে, যা আমরা পরবর্তীতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে শেয়ার করব। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল নাগরিক সমাজের জন্য একটি উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা, যাতে তারা নিজেদের কথাগুলো স্বাধীনভাবে বলতে পারেন এবং পরস্পরের মধ্যে নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি করতে পারেন। আমরা আজ আপনাদের কাজের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করার জন্য একত্রিত হয়েছি এবং সুযোগটি তৈরি করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই, আজকের এ বিশ্লেষণ ও সুপারিশগুলো যেন সাধারণ জনগণ ও সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা বা রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক আহসান হাবিব বলেন, "বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের সাথে আমাদের বড় ধরণের সামাজিক ও চিন্তাগত ব্যবধান (কগনিটিভ গ্যাপ) তৈরি হয়েছে। পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে শ্রেণিকক্ষে কথা বলতে শিক্ষকরা এখনো জড়তা বোধ করেন। অথচ এ জেনারেশন সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বেশি সক্রিয় এবং বৈশ্বিক নানা ট্রেন্ড সম্পর্কে আমাদের চেয়েও বেশি সচেতন। সরকারি নীতিমালায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের এই পরিবর্তনের ধারাকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
জাস্টিস কেয়ারের হেড অব প্রোগ্রাম (প্রিভেনশন এন্ড প্রটেকশন) মো. সিরাজ উদ্দিন বেলাল বলেন, বর্তমানে সরকারি সেফ হোমগুলোতে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণীর শিশুদের উপস্থিতি বাড়ছে, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে করোনাকালীন সময় থেকে শিশুদের মধ্যে যে ডিভাইস নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, তার মাধ্যমে তারা ইতিবাচক তথ্যের পাশাপাশি নেতিবাচক ও অনিরাপদ জগতের সাথেও সম্পৃক্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা দেখছি, ফেসবুক বা অনলাইনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কিশোর-কিশোরীরা পাচার ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, এমনকি দেশের বাইরে অনলাইন স্ক্যামিংয়ের মাধ্যমে তাদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গড়ে প্রতি বছর ৪৯৫ জন শিশু কিশোর বাংলাদেশ থেকে পাচারের শিকার। অপরাধগুলো বন্ধে সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ওয়াফা আলম বলেন, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কিশোর-কিশোরীদের জন্য অন্যতম প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকারবিষয়ক স্পেসে পরিণত হয়েছে। এখান থেকেই তারা স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং শারীরিক অধিকার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করছে। তবে এই ডিজিটাল অবাধ বিচরণ শিশুদের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিও তৈরি করছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কোনো শিশু যখন অনলাইনে যৌন নিপীড়ন বা শোষণের শিকার হয়ে সাহায্যের হাত বাড়ায়, তখন ডিজিটাল সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বা আইনি সহায়তা পেতে সে ব্যর্থ হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক কুসংস্কার ও লোকলজ্জার ভয় (স্টিগমা), যা ভুক্তভোগীকে আরও কোণঠাসা করে ফেলে। তাই ডিজিটাল স্পেসকে নিরাপদ করার পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও সুরক্ষা ব্যবস্থার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।"
পিএসটিসি এর নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, আজকের আলোচনায় আমাদের কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং অনলাইন যৌন শোষণের ভয়াবহ চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তবে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু কেবল নীতিমালার সীমাবদ্ধতা নয়; বরং বড় সংকট হলো এর বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতার অভাব। পাঠ্যপুস্তকে প্রজনন স্বাস্থ্য এবং যৌন সচেতনতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত জড়তা ও রক্ষণশীল মানসিকতার কারণে শ্রেণীকক্ষে এটি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এর নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা বলেন, “ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ মূলত পরিবারের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে শিশুদের ওপর ঘটা যৌন নির্যাতনের নীরবতা ভেঙে সত্য তুলে ধরার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সমাজে ‘সেক্সুয়াল’ শব্দটি উচ্চারণ করা যতটা সহজ, বাংলায় আমার সঙ্গে ‘যৌন নির্যাতন হয়েছে’ এ শব্দটির প্রকাশ ততটাই কঠিন। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিশুরা নিঃসঙ্কোচে তাদের সঙ্গে ঘটা ‘যৌন নির্যাতনের’ কথা প্রকাশ করতে পারবে। এ লক্ষ্যে আমরা বাবা-মা এবং শিশুদের চারপাশের মানুষদের সচেতন করার পাশাপাশি ‘পজিটিভ প্যারেন্টিং’ বা ইতিবাচক অভিভাবকত্বের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরি।
এছাড়াও আরো বক্তব্য দেন ইউএন অফিস অন ড্রাগস্ অ্যান্ড ক্রাইমের ন্যাশনাল প্রোগ্র্যাম কোঅর্ডিনেটর তাসনীম বিনতে করিম, টেরে ডেস হোমসের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুপা বড়ুয়া, টেরে ডেস হোমসের উপদেষ্টা (পিএমই ও ফান্ডরেইজিং) নুরল কবির, ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্সের শিশু সুরক্ষা ফোরামের সদস্য এবং শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান শিবলী, পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিএসটিসি) হেড অব প্রোগ্রাম মাহবুবুল আলম, ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের সহযোগী গবেষক জুমানা হায়াত খান, ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্সর শিশু ফোরামের সদস্য আবু হেনা রুমি, পিএসটিসি, গাজিপুর এর শিশু ফোরামের সদস্য সাজিদ মোনতাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলাল হোসেইন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ নূর উদ্দীন।









