তিনি বলেন, ‘‌নতুন করে বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী আচরণগত সংস্কৃতির পরিবর্তনেরও চেষ্টা করছেন।’

গতকাল রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‌প্রধানমন্ত্রী নিজেই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার বার্তা দিচ্ছেন। তিনি নাগরিকদের ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং সিটি করপোরেশনগুলোকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। তরুণদের মধ্যেও তিনি ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা জাগিয়ে তুলছেন।’

তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পাঁচ মাস পরও প্রত্যাশিত পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌যারা একসময় ঘুস, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন অবস্থান বদলে জুলাইয়ের পরিবর্তনের সুফল ভোগের চেষ্টা করছেন। এ সংস্কৃতি পরিবর্তনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, আর প্রধানমন্ত্রী সে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‌১৯৪৭ সাল থেকে এ দেশের মানুষ বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার সংগ্রাম করেছে। ক্ষুদিরাম বসু, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের পরও কাঙ্ক্ষিত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ২০২৪ সালে আবারো অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে।’

জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে ভোগবাদী মানসিকতা পরিহার করে মূল্যবোধনির্ভর সমাজ গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘‌বহু বছর ধরে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছি। ২০২৪ সালে সে তরুণরাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। এখন যদি দেশ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তবে সে আত্মত্যাগ বৃথা হয়ে যাবে।’

জুলাইয়ের শহীদদের ত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‌এ আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করতে হবে কাজের মাধ্যমে।’

বক্তব্যে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘‌স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার পর সেনাসদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে গেলে তিনি তাদের কমান্ডারের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানান। পরে তাকে বন্দিত্বও বরণ করতে হয়। খালেদা জিয়া আজীবন দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন।’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।